অকাল বৃষ্টিতে চন্দ্রকোনায় আলু চাষে বিপর্যয়, বিঘার পর বিঘা জমি জলমগ্ন

চন্দ্রকোনা: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের কইগেড়া গ্রামের আলু চাষ (Potato Farming)। গত কয়েকদিনের অকাল বর্ষণে মাঠে জল জমে বিঘার পর বিঘা জমি ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Chandrakona potato crop damage

চন্দ্রকোনা: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের কইগেড়া গ্রামের আলু চাষ (Potato Farming)। গত কয়েকদিনের অকাল বর্ষণে মাঠে জল জমে বিঘার পর বিঘা জমি পুরোপুরি জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। আলুর ফসল কার্যত নষ্ট হওয়ার মুখে দাঁড়িয়েছে। চাষিরা বলছেন, এই সময়ে এমন বৃষ্টি তাঁদের সব আশা ভেঙে দিয়েছে।

এলাকার অনেক চাষি ইতিমধ্যে আলু তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির জেরে সেই কাজ থমকে যায়। জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা জলে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যে আলু এখনও মাটির নিচে রয়েছে, সেগুলোরও ক্ষতি হচ্ছে। চাষিরা বলছেন, “আলু তোলার সময় এটাই। কিন্তু জলের জন্য মেশিন নামানো যাচ্ছে না, লোকজন ঢুকতে পারছে না। সব শেষ হয়ে যাবে।”

   

প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে খরচের চাপ

চাষিদের অভিযোগ, একদিকে অকাল বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে উৎপাদন খরচের আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি। সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরিসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। অনেকেই ব্যাঙ্ক বা স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এবারের আলু চাষ করেছিলেন। ফসল নষ্ট হলে ঋণ শোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এক চাষি বলেন, “এবার লোকসান হলে সংসার চালানোই মুশকিল। ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, বাড়ির খরচ—সব থমকে যাবে।”

প্রশাসনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা দ্রুত প্রশাসনের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা চাইছেন:

  • জমির ক্ষতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিক সাহায্য
  • কৃষি দফতরের টিম পাঠিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ
  • ঋণ মকুব বা পুনর্গঠনের সুবিধা

চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের বিডিও অফিসে ইতিমধ্যে চাষিরা লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরাও প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

মেদিনীপুর জেলায় আলু চাষের বড় ধাক্কা

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বাংলার অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদনকারী এলাকা। চন্দ্রকোনা, ঘাটাল, দাসপুর, কেশপুর ব্লকগুলোতে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। এবারের অকাল বৃষ্টি শুধু কইগেড়া নয়, পুরো এলাকায় ক্ষতি করেছে। কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা প্রশাসন ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু করেছে এবং কেন্দ্রীয় সহায়তার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। চাষিরা এখন শুধু একটাই আশা করছেন, দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সাহায্য। না হলে এই মৌসুমে আলু চাষের উপর তাঁদের ভরসা কমে যাবে।

(প্রতিবেদনটি স্থানীয় চাষি, পঞ্চায়েত সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ক্ষতির পরিমাণ ঘোষণা করা হয়নি।)

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google