নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের অপেক্ষা এখন তুঙ্গে। ৮ম বেতন কমিশনের ( 8th Pay Commission) সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সবচেয়ে বড় আলোচনা হয়ে উঠেছে মহার্ঘ ভাতা (DA) গণনার পুরনো সূত্র বদলানোর দাবি। কর্মী সংগঠনগুলো বলছে, ১৯৫৭ সালের আইক্রয়েড ফর্মুলা আর আজকের বাস্তবতায় চলে না। এই পরিবর্তন হলে লক্ষ লক্ষ কর্মীর মূল বেতন, DA ও পেনশন সবই একসঙ্গে বাড়বে।
DA সূত্র বদলের দাবি কেন এত জোরাল?
বর্তমানে DA গণনা হয় শিল্প শ্রমিকদের ভোক্তা মূল্য সূচক (AICPI-IW)-এর ভিত্তিতে। কিন্তু আইটিইউসি-সহ একাধিক সংগঠন বলছে, এই পদ্ধতি পরিবারের আসল খরচ ধরতে পারছে না। তারা চাইছে:
- ৩ সদস্যের পরিবারের বদলে ৫ সদস্যের পরিবারকে ভিত্তি করা
- ইন্টারনেট, মোবাইল, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও ডিজিটাল খরচ যোগ করা
- বর্তমানে DA ৫৮ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এটি ৬০ শতাংশে উঠতে পারে। কমিশনের ১৮-দফা প্রশ্নমালায় মতামত জমা দেওয়ার শেষ তারিখ এখন ৩১ মার্চ, ২০২৬।
আইক্রয়েড ফর্মুলা আসলে কী?
১৯৫৭ সালে ড. ওয়ালেস আইক্রয়েডের তৈরি এই ফর্মুলা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে। এতে ধরা হয় প্রতিদিন ২,৭০০ ক্যালোরি খাবার, পোশাক ও বাসস্থান, একটি আদর্শ ৩ সদস্যের পরিবারের জন্য। ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, এই মডেল এখন পুরোপুরি সেকেলে। আধুনিক জীবনযাত্রার খরচ এতে ধরা হয় না।
বেতন ও পেনশনে কী প্রভাব পড়বে?
যদি সরকার দাবি মেনে নেয় তাহলে:
- ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকার ওপরে উঠতে পারে (৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি)
- DA-র পরিমাণও অনেক বাড়বে
- পেনশন ও ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) সরাসরি বৃদ্ধি পাবে
- ইনক্রিমেন্ট, HRA-সহ সব ভাতা বাড়বে
- ফলে কর্মচারীদের হাতে মাসিক আয় বাড়বে, আর পেনশনভোগীরাও আরও ভালো সুবিধা পাবেন।
পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের জন্য কী অর্থ বহন করে?
কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুরসহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রেল, পোস্ট, প্রতিরক্ষা, কাস্টমস ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় দফতরে লক্ষ লক্ষ কর্মী ও পেনশনার রয়েছেন। তাঁদের অনেকেরই বলছেন, বর্তমান DA সূত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যদি সূত্র বদল হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের এই কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।
সরকারের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
এই পরিবর্তন হলে সরকারের মোট ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। শহর-গ্রামের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পার্থক্য মেটানোও জটিল। তাই এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ৮ম বেতন কমিশনের সুপারিশ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে পারে। কর্মী সংগঠনগুলো এখন অপেক্ষায়, ৩১ মার্চের মধ্যে তাদের দাবি কতটা গুরুত্ব পায়।
(দাবি অস্বীকার: এই প্রতিবেদন উপলব্ধ তথ্য, সংগঠনের দাবি ও সংবাদ সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি। সরকারি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অনুমানমাত্র।)




















