হরমুজের দরজা খুলতে ২২০০ সেনা নিয়ে ইরান রওনা দিল ইউএসএস ত্রিপোলি

ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ। (US troops Iran)গত তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে…

us-troops-iran-war-uss-tripoli-middle-east-deployment

ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ। (US troops Iran)গত তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্বজুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি সত্যিই ইরানে স্থলবাহিনী নামাতে চলেছেন? যদিও তিনি নিজে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি, তবুও সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা নতুন করে জল্পনা উস্কে দিচ্ছে।

সর্বশেষ স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি প্রায় ২,২০০ সেনা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে। বর্তমানে এটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগর এলাকায় অবস্থান করছে, যা ভারতের কাছাকাছি অঞ্চল হিসেবেই ধরা হয়। এই অগ্রযাত্রা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান যুদ্ধ খুব শীঘ্রই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ ৫ বছরের জন্য তেল সরবরাহ করতে পারবে না কাতার! আগামিদিনে কি হবে ভারতে?

এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প অবশ্য সাংবাদিকদের প্রশ্নে কৌতুক করে বলেন, “আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না। আর পাঠালেও আপনাদের বলব না।” তবে তাঁর অতীত রেকর্ড বলছে, হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট অপ্রত্যাশিত। মার্কিন নিরাপত্তা মহলের একাংশের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন সক্রিয়ভাবে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

এর পিছনে রয়েছে মূলত দুটি বড় কারণ। প্রথমত, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান প্রায় সম্পূর্ণভাবে এই পথ বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে।

যদিও কিছু ট্যাঙ্কারকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের দিকে যাওয়া জাহাজগুলিকে, তবুও পশ্চিমী দেশগুলির জাহাজকে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিরাপদে পারাপারের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থও দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন করে হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপকূল দখল করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার সুরক্ষিত করা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রায় ৯৫০ পাউন্ড ইউরেনিয়াম এখনও ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে। এই ভাণ্ডার সুরক্ষিত করতে স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত খার্গ দ্বীপ-এর দিকেও নজর রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। এই দ্বীপ থেকেই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয়। সম্প্রতি এখানে মার্কিন হামলা হলেও তেল পরিকাঠামো অক্ষত রাখা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে কৌশলগত দখলের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে USS Tripoli-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধজাহাজে থাকা ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের সেনারা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্থল ও আকাশ যুদ্ধ, দ্রুত হামলা এবং সমুদ্র থেকে স্থলে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে। জাহাজটিতে রয়েছে আধুনিক F-35 স্টেলথ যুদ্ধবিমান, MV-22 Osprey হেলিকপ্টার এবং বিশেষ ল্যান্ডিং ক্রাফট। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ফলে নতুন করে বাহিনী নামানো হলে তা গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক পদক্ষেপ হতে পারে।