ভারতেই শিকড়! খামেনেই র আত্মার শান্তি কামনায় বাংলার বিজেপি নেতা

dilip-ghosh-reaction-khamenei-death-india-roots

কলকাতা: গত রাতে আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ হামলায় মারা গিয়েছেন ইরানের সর্বময় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই (Dilip Ghosh)। এই মৃত্যুর জের শুধু ইরান নয় আগুনের মত ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্ব তথা বাংলাতেও। বাংলার রাজনৈতিক মহল ও এই মৃত্যু নিয়ে সরব হয়েছেন। বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ খামেনেই র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন তার শিকড় ভারতেই। তার সঙ্গে দিলীপ খামেনেই র এবং তার পরিবারের মানুষদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন ” ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তাঁর মেয়ে, জামাই এবং নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে | খামেনেই-এর আত্মার শান্তি কামনা করি।” তিনি আরও বলেন খামেনেইয়ের পূর্বসূরী আয়াতোল্লা রোহল্লাহ খামেনেই বহুকাল আগে ভারত থেকেই ইরানে গেছিলেন ইসলামিক শিক্ষার জন্য।

   

আরও দেখুনঃ ইডেনে ডু অর ডাই লড়াই, ইন্ডিজকে হারালেই সেমির দরজা খুলবে ভারতের

ভারতীয় শিকড়ের সঙ্গে যোগ ছিল তাঁদের।” রাজ্য রাজনীতির মঞ্চে স্পষ্ট বক্তা হিসেবে পরিচিত দিলীপ ঘোষ। তিনি যেমন শাসক দলের সমালোচনা করেন তেমনই মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে তাকে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনেও দেখা গিয়েছিল এবং তা নিয়েও হয়েছিল বিতর্ক। আজ খামেনেই র মৃত্যুতে তার শোক জ্ঞাপনের পরে তার জন্য কি বিতর্ক অপেক্ষা করছে তা বলবে তার দলের নেতৃত্বের সমালোচনা।

যদিও এখনও প্রকাশ্যে বিজেপির কোনও নেতৃত্ব তার সমালোচনা করেননি বা তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। তবে স্পষ্ট বক্তা দিলীপ ঘোষ যে ইতিহাস বিস্মৃত নন তা দেখে প্রশংসায় ভরিয়েছেন নেটিজেনরা। তবে প্রকৃত ইতিহাস হল এই যে খামেনেয়ীর পূর্বসূরি এবং আধুনিক ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই র পিতামহ সৈয়দ আহমদ মুসাভি ‘হিন্দি’ ১৮শ শতকে ভারতের উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার কিন্তুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পরিবার মূলত ইরান থেকে ভারতে এসেছিল, তবে আহমদ হিন্দি ভারতেই বড় হন। ১৮৩০ সালে তিনি ভারত ত্যাগ করে ইরাকের নাজাফে যান এবং পরবর্তীতে ইরানের খোমেন শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সুতরাং এই ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষের শোক জ্ঞাপনকে সিংহ ভাগ মানুষই প্রশংসা করেছেন। তবে এটাও দেখার যে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা তার সমালোচনা করেন কি না।

কারণ দুদিনের সফরে ইসরায়েল গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তিনি ফিরে আসার ২৪ ঘন্টার মধ্যে শুরু হয় ইরানের উপর ইসরায়েলি আক্রমণ। সুতরাং ভারতের রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করেন এবং আসাদুদ্দিন ওআইসির মত রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব এতে প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে খামেনেই র জন্য শোক দিলীপের জন্য কি আনে তা সময়ই বলবে।