
কাবুল: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। (Asim Munir)ক্রমাগত আফগানিস্তানের তেহরিক ই তালিবানের আক্রমণ মাত্রা ছাড়িয়েছে বলেই এমন সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের, এমনটাই দাবি করেছে তারা। তবে যুদ্ধ সামরিক যুযুধানদের মধ্যেই হয় এমনটাই সবাই জানেন, কিন্তু পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনির সমস্ত সীমা অতিক্রম করে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের টার্গেট করেছেন এমনটাই দাবি করেছে তালিবান সরকার।
সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে অন্তত ১৯ জন নিরীহ নাগরিক নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের মুখপাত্রের দফতর। এই হামলায় বেশিরভাগ শহীদ ও আহতদের মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশুরা। কাবুল থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক শাসন বারবার সাধারণ নাগরিকদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত এবং নির্মম।
আরও দেখুন: মার্চের শুরুতেই পকেটে টান! এলপিজি থেকে ইউপিআই, দলে যাচ্ছে এই ৬ নিয়ম
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা সকল শহীদদের জন্য জান্নাত কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্যের প্রার্থনা করছি।”এই ঘটনা পাকিস্তান ও আফগান তালেবানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার একটি নতুন অধ্যায়। পাকিস্তান দাবি করেছে যে, তারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং আইএস-খোরাসানের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্ররা বলছেন, ইসলামাবাদ, বাজৌর ও বান্নুতে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি, এতে ৭০ থেকে ২৭৪ জনেরও বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং শতাধিক আহত। তারা জোর দিয়ে বলছে যে, হামলাগুলো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং নাগরিকদের ক্ষতি এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তথ্য তা বলছে না। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি একেবারে উল্টো। তারা বলছে, পাকিস্তানি বিমান হামলা নাঙ্গারহার, পাকতিকা, খোস্তসহ বিভিন্ন প্রদেশে নিরীহ গ্রামবাসীদের বাড়ি, মাদ্রাসা এবং আবাসিক এলাকায় পড়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) নিশ্চিত করেছে যে, ২১-২২ ফেব্রুয়ারির হামলায় অন্তত ১৩ জন নাগরিক নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছে। আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তারা নাঙ্গারহারে ১৮ জন নাগরিকের মৃত্যুর কথা বলেছেন। আফগান শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি মাদ্রাসা ও বাড়িতে হামলায় শিশুসহ অনেকে প্রাণ হারিয়েছে।
তথ্য বলছে আফগানিস্তানের জনবসতিপূর্ণ এলাকাকেই টার্গেট করে হামলা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনা সারা বিশ্বে নিন্দে কুড়োচ্ছে। রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলের মতে নির্লজ্জতার সীমা ছাড়িয়েছে পাকিস্তান। অসীম মুনির যদি এই ধরণের আদেশ দিয়ে থাকেন তবে তা সারা পৃথিবীর কাছে ঘৃণ্য।

