গ্রেফতার করা হবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে! হুমকি এনসিপির

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Bangladesh)। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-president-impeachment-controversy

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Bangladesh)। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে পদচ্যুত করে গ্রেফতার করা উচিত। এই দাবি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেউ একে গণতন্ত্রের জয় বলছেন, কেউ আবার বলছেন, এটা সংবিধানকে সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা।

নাহিদ ইসলাম এই দাবি করেছেন গতকাল ২৫ ফেব্রুয়ারি বানানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণহত্যা বা গণহত্যার সময় রাষ্ট্রপতি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। তিনি সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং ‘ফ্যাসিস্ট যুগের’ প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নাহিদের ভাষায়, “পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনেই তাকে ইমপিচ করা উচিত।

   

তারপর জুলাইয়ের গণহত্যার জন্য গ্রেফতার করা হবে।” তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এই কাজ করা সম্ভব।এই দাবির পিছনে নাহিদের যুক্তি হলো রাষ্ট্রপতি জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় নীরব ছিলেন, যখন শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছিল সংকটে হস্তক্ষেপ করা, কিন্তু তিনি তা করেননি। এছাড়া রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নাহিদের মতে, এখন নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে, নতুন সরকার এসেছে এই সময়েই ‘ফ্যাসিস্ট যুগের’ চিহ্ন মুছে ফেলার কাজ শুরু করতে হবে।এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এনসিপি, যা ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে উঠে আসা দল, এখন সংসদে বিরোধীদলের নেতৃত্ব দিচ্ছে। নাহিদ ইসলাম নিজে সেই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। তারা মনে করেন, পুরনো শাসনের অবশিষ্টাংশ অপসারণ না করলে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।

অনেকে এই দাবিকে সাহসী পদক্ষেপ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছেন, রাষ্ট্রপতির পদ যদি অপব্যবহার হয়, তাহলে ইমপিচমেন্টের বিধান সাংবিধানিকভাবেই রয়েছে।কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, একজন বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া গণতন্ত্রের মূল্যবোধের পরিপন্থী। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো কোনো রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচ করা হয়নি, যদিও ২০০২ সালে একবার কাছাকাছি গিয়েছিল। তারা প্রশ্ন তুলছেন এটা কি প্রতিহিংসার রাজনীতি?

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদ সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ, তিনি কোনো দলের প্রতিনিধি নন। এমন দাবি সাংবিধানিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছড়ানোর চেষ্টা, যা দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে।রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এনসিপি চায় সরকার ও বিরোধীদল মিলে এই পদক্ষেপ নিক, কিন্তু অন্যান্য দলগুলোর অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google