কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার (DK Shivakumar) বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠক ঘিরে দক্ষিণী রাজ্যটিতে চলতে থাকা ক্ষমতা পরিবর্তনের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছিল যে কর্ণাটক কংগ্রেসে নেতৃত্বের রদবদল হতে পারে, আর সেই প্রেক্ষাপটে শিবকুমারের এই দিল্লি সফর নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কংগ্রেস সূত্রের দাবি, বৈঠকটি ছিল “ইতিবাচক” এবং এতে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি, তবুও দলীয় অন্দরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দল এ বিষয়ে কোনও ঘোষণা করেনি।
২০২৩ সালে কর্ণাটকে কংগ্রেস সরকার গঠনের সময় মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া ও ডি কে শিবকুমারের (DK Shivakumar) মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক ক্ষমতা ভাগাভাগির সমঝোতা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা রয়েছে। সেই সময় শিবকুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয় এবং সিদ্ধারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। শোনা যায়, নির্দিষ্ট সময় পর নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। যদিও এ নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে কিছু স্বীকার করা হয়নি, তবুও বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর কংগ্রেস সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদের অর্ধেক পথ অতিক্রম করে। এরপর থেকেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনা আরও তীব্র হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের সময় যদি কোনও রকম সমঝোতা হয়ে থাকে, তবে এখনই সেই পরিবর্তনের উপযুক্ত সময় হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটেই শিবকুমারের দিল্লি সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী(DK Shivakumar) সিদ্ধারামাইয়ার পুত্র যাথীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে তাঁর বাবা পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করবেন। এই মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিবকুমার হালকা রসিকতার সুরে বলেন, “যাথীন্দ্রই তো আমাদের হাইকমান্ড, আমাদের তা মেনে নিতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে কেউ একে কৌতুক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বা এতে সূক্ষ্ম বার্তা খুঁজছেন।




















