জম্মু: জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক করে দিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (Pulwama)। মকবুল ভাটের ফাঁসির বার্ষিকী এবং পুলওয়ামা হামলার বার্ষিকীর আগে সম্ভাব্য জঙ্গি ষড়যন্ত্রের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সময়কালকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৮৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিহাড় জেলে মকবুল ভাটকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। আর ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জৈশ-ই-মোহাম্মদের আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন।
এই দুটি তারিখের কাছাকাছি এসে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এই সময়ে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করতে পারে।গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জৈশ-ই-মোহাম্মদ, লস্কর-ই-তৈয়বা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে কাশ্মীর উপত্যকায় গ্রেনেড হামলা, আইইডি বিস্ফোরণ বা ফিদায়িন আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে সেনা কনভয়, পুলিশ পিকেট, সরকারি ভবন এবং জনসমাগমের জায়গাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা হতে পারে। এই সতর্কতার পর কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত সেনা ও প্যারামিলিটারি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং লাইন অফ কন্ট্রোল (এলওসি)-এ সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সেনা কনভয়ের চলাচল সীমিত করা হয়েছে, এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকিং বাড়ানো হয়েছে।মকবুল ভাট জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তাকে ১৯৮৪ সালে একজন পুলিশ অফিসার হত্যার অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়। কাশ্মীরের কিছু অংশে তাকে ‘শহিদ’ হিসেবে দেখা হয়, এবং তার মৃত্যুবার্ষিকীতে বন্ধ-ডাক দেওয়া হয়। অন্যদিকে পুলওয়ামা হামলা ভারতের জন্য একটা কালো অধ্যায় যাতে ৪০ জন জওয়ান প্রাণ হারান।
এই হামলার পর ভারত বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়ে জৈশের ঘাঁটি ধ্বংস করে। এই দুটি ঘটনার বার্ষিকী একসঙ্গে এসে পড়ায় সন্ত্রাসীরা এটাকে ‘প্রতিশোধ’ বা ‘প্রতিবাদ’-এর সুযোগ হিসেবে দেখতে পারে।নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে জঙ্গিদের মোটিভেশন বেশি থাকে। তারা এই তারিখগুলোকে ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে প্রচার করে যুবকদের উস্কানি দেয়। গত কয়েক বছরেও এই তারিখগুলোর আগে সতর্কতা জারি হয়েছে
যেমন ২০১৮ সালে আফজল গুরু ও মকবুল ভাটের বার্ষিকীর আগে জৈশের হামলার আশঙ্কা করা হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি। কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সন্ত্রাসবাদ কমলেও, পাকিস্তান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এখনও সক্রিয়। তারা ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পাঠানো, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা এবং স্থানীয় সহযোগীদের ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা করে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব ধরনের হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সিআরপিএফ যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। এই সতর্কতা শুধু কাশ্মীর উপত্যকায় নয়, জম্মু অঞ্চল এবং এলওসি-সংলগ্ন এলাকায়ও প্রযোজ্য।



