নীরব মোদীর বিরুদ্ধে টাকা চুরির কোনও প্রমাণই পাচ্ছে না সিবিআই

nirav-modi-gets-relief-as-cbi-finds-no-corruption-evidence-in-particular-case

নয়াদিল্লি: পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB) কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত নীরব মোদীর (Nirav Modi)বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট মামলায় দুর্নীতির কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (CBI)। এই মামলাটি এখন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে বৃহত্তর পিএনবি কেলেঙ্কারির তদন্ত এখনও চলছে বলে জানিয়েছে সিবিআই।

ঘটনাটি শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের পর। পিএনবির মুম্বই জোনাল অফিসের অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ছিল, ব্যাংকের ব্র্যাডি হাউস শাখায় ঘুষ দিয়ে জাল লেটার্স অফ আন্ডারটেকিং (LoU) এবং বিদেশি লেটার্স অফ ক্রেডিট তৈরি করে নীরব মোদী ও তাঁর মামা মেহুল চোকসি প্রায় ৩২১.৮৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ তদন্তের পর সিবিআই এই নির্দিষ্ট মামলায় দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পায়নি।

   

আরও দেখুনঃ ‘কল্যাণদা মানুষ করেছেন’, অ্যারোগেন্ট ইমেজ ঝেড়ে বিনয়ের বার্তা, নতুন সুর অভিষেকের

ফলে মামলাটি এখন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।নীরব মোদী ও মেহুল চোকসির নাম জড়িয়ে থাকা মূল পিএনবি কেলেঙ্কারির পরিমাণ ছিল ১৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি। এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিল জাল LoU তৈরি, বিদেশি শাখায় ঋণ দেখিয়ে টাকা তোলা এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ। নীরব মোদীর হীরার ব্যবসার সাম্রাজ্যকে কেন্দ্র করে এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল।

অভিযোগ উঠেছিল যে, ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়ে সিস্টেমে গর্ত করে টাকা বাইরে পাচার করা হয়েছে।সিবিআইয়ের সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হয়েছেন। একদিকে দেশের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির অন্যতম নায়ক নীরব মোদী, অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট অংশে দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়া এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান অনেকের মনে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে সিবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, এই একটি মামলায় প্রমাণ না মিললেও মূল কেলেঙ্কারির তদন্ত এখনও পুরোদমে চলছে। নীরব মোদী ও মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।নীরব মোদী বর্তমানে ভারতে ফেরার অপেক্ষায় লন্ডনে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে এবং ভারত সরকার তাঁকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। মেহুল চোকসিও দেশের বাইরে রয়েছেন। এই কেলেঙ্কারির পর পিএনবি বড় ধাক্কা খেয়েছিল। ব্যাংকের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়।