কলকাতা: বাংলায় চলতি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (West Bengal) প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে চূড়ান্ত তালিকা ২১ ফেব্রুয়ারির আগে প্রকাশিত হবে না, তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি প্রকাশ করার।
এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্ক্রুটিনি বা নথি যাচাইয়ের সময়সীমা এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। ফলে কমিশন নোটিফিকেশন জারি করে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেছে।গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এসআইআর-সংক্রান্ত মামলায় একাধিক নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত বলেছে যে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সময় নেবে, তাই ১৪ ফেব্রুয়ারির পর অন্তত এক সপ্তাহ অতিরিক্ত সময় দিতে হবে। এতে ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শুধু ইআরও-রাই নেবেন, মাইক্রো-অবজারভাররা সাহায্য করবেন মাত্র।
পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সহ্য করা হবে না, এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপিকে হলফনামা দিয়ে হামলা-ভয়ভীতির অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে।এই নির্দেশের পর কমিশন দ্রুত নতুন সময়সূচি ঘোষণা করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি ও স্ক্রুটিনি চলবে। এরপর চূড়ান্ত তালিকা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সিইও জানিয়েছেন যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১.৩৯ কোটি কেসে শুনানি শেষ হয়েছে এবং ১.০৬ কোটি কেসে নথি আপলোড করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে ২০২৬-এ শেষ হবে।এসআইআর নিয়ে রাজ্য সরকার ও কমিশনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় গত সপ্তাহে দিল্লিতে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে টেবিল চাপড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টের দাবি তুলেছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ যে এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম কাটা হচ্ছে এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কমিশন বলছে যে এটি যোগ্য ভোটারদের তালিকা নিশ্চিত করার জন্য, এবং কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য সরকার ৮,৫০৫ জন গ্রুপ-বি অফিসারকে কমিশনের কাজে সাহায্য করার জন্য পাঠানোর কথা বলেছে। এই অফিসারদের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। যোগ্য হলে তাদের ইআরও বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইআরও হিসেবে নিয়োগ করা হবে, অন্যথায় মাইক্রো-অবজারভার হিসেবে কাজ করবেন।




















