শিলিগুড়ি: কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক (Bangladeshi intruder)আহত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ভোরবেলায় বিএসএফের তরফে ওই যুবককে মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নত চিকিৎসার জন্য জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে সীমান্ত এলাকায় টহলদারির সময় এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়। তাকে থামার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি পালানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছোঁড়ে বিএসএফ। সেই গুলিতেই আহত হন ওই যুবক। আহত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও কিছু নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ধৃতের নাম সজল চন্দ্র রায় (২১)। তিনি বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার জলঢাকা এলাকার বাসিন্দা বলে দাবি করা হয়েছে।
আরও দেখুন: প্রার্থী নির্বাচনে ফাঁস হল বিজেপির ব্র্যান্ড নিউ স্ট্রাটেজি
তদন্তে আরও জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর এখানে থেকেই তিনি আধার কার্ড, প্যান কার্ডসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় নথি তৈরি করে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ। এই তথ্য সামনে আসতেই দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচয়পত্র ইস্যু প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন নয়। তবে একজন বিদেশি নাগরিক কীভাবে দীর্ঘদিন ভারতে থেকে সরকারি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারলেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আধার ও প্যান কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরির ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই কতটা কঠোরভাবে করা হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জেলা পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেনি বিএসএফ। মাথাভাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখার্জি জানিয়েছেন, “বিএসএফ এখনও আমাদের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেনি। তাই বিস্তারিত তথ্য না পেয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”
চিকিৎসাধীন যুবকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তার শরীরে রাবার বুলেটের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নথি যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের তরফে তদন্ত শুরু হলে কীভাবে ওই যুবক ভারতে ঢুকল এবং কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করল, তা সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




















