নজিরবিহীন! দেশে প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রস্তাব

নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার দিকে এগোচ্ছে দেশ। (Gyanesh Kumar)প্রথমবারের মতো দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সংসদে।…

impeachment-motion-against-gyanesh-kumar-chief-election-commissioner-india

নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার দিকে এগোচ্ছে দেশ। (Gyanesh Kumar)প্রথমবারের মতো দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সংসদে। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবির এই প্রস্তাব আনতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। ইতোমধ্যেই লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, সাংবিধানিক পদে থাকা কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় অন্তত ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে বিরোধী শিবিরের পরিকল্পনা ছিল ন্যূনতম সংখ্যক সাংসদের সমর্থন নিয়ে প্রস্তাব জমা দেওয়ার।

   

আরও দেখুনঃ সেনেটে দাঁড়িয়ে ইরানকে ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি মেলোনির

তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই সংখ্যা অনেকটাই ছাড়িয়ে গিয়েছে। জানা গেছে, লোকসভায় ইতিমধ্যেই ১২০ জন সাংসদ এবং রাজ্যসভায় ৬০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। অর্থাৎ মোট ১৮০ জন সাংসদের সমর্থন জোগাড় হয়েছে, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
সংসদ সূত্রে খবর, আগামী বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার এই দুই দিনের মধ্যে সংসদের দুই কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের নোটিস জমা দেওয়া হতে পারে। যদি সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়, তবে তা পাশ করানোর জন্য সংসদের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন দরকার হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এটি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনও কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ঘটনা ঘটেনি।

এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নিয়মে আনা পরিবর্তন। নতুন আইনের অধীনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এই কমিটি পাঁচজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম সুপারিশ করে এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত নিয়োগে অনুমোদন দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।

যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই ভারত সরকারের সচিব বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা হতে হবে এবং নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ ছয় বছর বা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত, যেটি আগে শেষ হয়।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধী জোটের দাবি, কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির প্রভাবেই কমিশনের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গসহ বিজেপি-বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিতে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং রাজ্য পুলিশের রদবদল নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতেই বিরোধী জোট সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া সহজ হবে না। তবুও এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক মহলে বড় আলোড়ন তৈরি করেছে।