লখনউ: খোদ যোগী রাজ্যে খোঁজ মিলল ২২ জন পাকিস্তানি মহিলার। মোরাদাবাদে (Pakistani women)দীর্ঘমেয়াদি ভিসায় বসবাসকারী ২২ জন পাকিস্তানি মহিলাকে ঘিরে তৈরী হয়েছে চাঞ্চল্য। টের সঙ্গে নতুন করে নাগরিকত্ব ও বসবাস সংক্রান্ত নীতির প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই ২২ জন মহিলা বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই ভারত সরকারের জারি করা রেশন কার্ড ও আধার কার্ড রয়েছে। এর মধ্যেই তাঁদের পরিবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে উঠেছে।
তথ্য অনুযায়ী, এই ২২ জন মহিলা মোরাদাবাদে বসবাসের সময় মোট ৯৫ জন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, যাদের জন্ম হয়েছে ভারতে। ফলে এই সন্তানরা ভারতেই বড় হয়েছে এবং এখানকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিবেশের মধ্যেই তাদের বেড়ে ওঠা। প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা গেছে, এই মহিলাদের প্রায় ৩৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই দিদিমা বা ঠাকুমার ভূমিকায় পৌঁছে গেছেন, অর্থাৎ তাঁদের সন্তানদেরও সন্তান হয়েছে।
আরও দেখুন: হিন্দু সমাজকে চার ভাগ করলেন সংঘ প্রধান
ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পরিবারগুলির সদস্য সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। সন্তান ও নাতি-নাতনিদের মিলিয়ে এখন এই ২২টি পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৫০০-রও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের মতে, এই পরিবারগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় বসবাস করছে এবং অনেকেই স্থানীয় সমাজের সঙ্গে মিশে গেছেন।
তবে এই বিষয়টি সামনে আসতেই নাগরিকত্ব, ভিসা নীতি এবং সীমান্ত-সংলগ্ন বা বিদেশি নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সাধারণত মানবিক বা পারিবারিক কারণে দেওয়া হয়, বিশেষ করে যাঁদের ভারতে আত্মীয়স্বজন রয়েছে বা বিয়ের সূত্রে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই ভিসা নবায়ন করা হয় এবং বছরের পর বছর ধরে তারা ভারতে বসবাস করেন।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ভিসাধারীরা আইনত কিছু সুবিধা পান, তবে তাঁদের নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয় না। নাগরিকত্বের জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, যা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হয়। ফলে এই পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান কী হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে, এই তথ্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা পরিবারগুলির সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক দিকটিও বিবেচনা করা উচিত। অন্যদিকে, আরেক অংশের মত, বিদেশি নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের আইনি অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট নীতি থাকা দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ জানিয়েছেন, এই পরিবারগুলির অনেকেই বছরের পর বছর ধরে একই এলাকায় বসবাস করছেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তাঁদের সন্তানরাও স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করছে এবং সমাজের সঙ্গে মিশে গেছে।
পুরো বিষয়টি এখন প্রশাসনিক নজরে রয়েছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই পরিবারগুলির পরবর্তী অবস্থান।




















