Home World এপস্টিন ফাইল ঘিরে নতুন বিতর্ক, কেন স্টারমারের পদত্যাগ চাইছে ব্রিটেন?

এপস্টিন ফাইল ঘিরে নতুন বিতর্ক, কেন স্টারমারের পদত্যাগ চাইছে ব্রিটেন?

keir-starmer-resignation-demand-epstein-files-uk-politics

লন্ডন: এপস্টিনের জেরে এবার প্রধানমন্ত্রীর গদি টলোমলো। ব্রিটেনের রাজনীতিতে এখন তুমুল আলোড়ন (Keir Starmer)। জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে যুক্ত নতুন ফাইল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। এই ফাইলগুলোতে স্টারমার নিজে কোনও অভিযোগের মুখোমুখি হননি, কিন্তু তার নিয়োগ করা প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের এপস্টাইনের সঙ্গে গভীর সম্পর্কের নতুন তথ্য বেরিয়ে আসায় সরকারের ভিত কেঁপে উঠেছে।

- Advertisement -

লেবার পার্টির ভিতরেও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, কয়েকজন এমপি সরাসরি বলছেন, “স্টারমারের সময় শেষ”। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তাহলে হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদের নাম উঠে আসছে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যা হবে ব্রিটেনের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী।সবকিছু শুরু হয়েছে আমেরিকার জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের সাম্প্রতিক ৩০ লক্ষেরও বেশি এপস্টাইন-সম্পর্কিত নথি প্রকাশের পর।

   

আরও দেখুন: ভারত-পাক ম্যাচ বাঁচাতে ময়দানে বিসিবি সভাপতি!

এতে দেখা গেছে, লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা পিটার ম্যান্ডেলসন (লর্ড ম্যান্ডেলসন) এপস্টাইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব বজায় রেখেছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে এপস্টাইনের শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও। নথিতে দেখা যাচ্ছে, ম্যান্ডেলসন এপস্টাইনকে সরকারি গোপন তথ্য শেয়ার করেছেন, টাকা নিয়েছেন এবং এমনকি তার সঙ্গে অশ্লীল ছবি ও মেসেজ আদান-প্রদান করেছেন।

স্টারমার ২০২৪ সালের শেষে ম্যান্ডেলসনকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছিলেন, যদিও তার এপস্টাইন-সম্পর্কের কথা জানতেন। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেই নিয়োগ বাতিল করেন এবং ম্যান্ডেলসনকে পার্টি থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন।স্টারমার সংসদে বলেছেন, ম্যান্ডেলসন তাকে “বারবার মিথ্যা বলেছেন” এবং “দেশ, সংসদ ও পার্টিকে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন”।

তিনি এপস্টাইনের ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, নিয়োগের সময় সম্পর্কের গভীরতা জানতেন না। কিন্তু লেবার পার্টির ভিতরে এই ব্যাখ্যা মানা হচ্ছে না। ওয়েলশ লেবার এমপি র‍্যাচেল মাস্কেল বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর পদ এখন অসহনীয়”। আরেকজন এমপি বলেছেন, “এটা তার বিচারবুদ্ধির প্রশ্ন”। পার্টির ডানপন্থী ও বামপন্থী উভয় অংশ থেকে চাপ আসছে।

স্টারমারের অনুমোদন রেটিং এখন রেকর্ড নিম্নমুখী, এবং পার্টির অনেকে মনে করছেন, এই স্ক্যান্ডাল তার পতনের শেষ ধাক্কা হতে পারে।যদি স্টারমার পদত্যাগ করেন, তাহলে লেবার পার্টিতে নেতৃত্বের লড়াই শুরু হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শাবানা মাহমুদের নাম সবচেয়ে আলোচিত। ৪৫ বছরের এই হোম সেক্রেটারি স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, পার্টির ডানপন্থী অংশের। তিনি বার্মিংহাম লেডিউডের এমপি এবং ব্রিটেনের প্রথম মুসলিম নারী হোম সেক্রেটারি।

তার কঠোর অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পরিকল্পনা এবং প্যালেস্টাইন-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতা তাকে শক্তিশালী করে তুলেছে। টনি ব্লেয়ারের মতো নেতারা তার প্রশংসা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি লেবার পার্টি একজন শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ নেতা চায়, তাহলে শাবানা মাহমুদের সুযোগ অনেক। এতে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবার একজন মুসলিম প্রধানমন্ত্রী দেখার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা দেশের বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হতে পারে।

Follow on Google