দুদিনে ১৭ বার ভূমিকম্পের মুখোমুখি সিকিম

সিকিম: সিকিমের মাটি ফের কেঁপে উঠেছে, আর এবার একটা অস্বস্তিকর ধারাবাহিকতায় (Sikkim earthquakes)। গত দু’দিনে রাজ্যটিতে অন্তত ১৭ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি…

sikkim-earthquakes-17-tremors-two-days-february-2026

সিকিম: সিকিমের মাটি ফের কেঁপে উঠেছে, আর এবার একটা অস্বস্তিকর ধারাবাহিকতায় (Sikkim earthquakes)। গত দু’দিনে রাজ্যটিতে অন্তত ১৭ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি মাঝারি মাত্রার। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, অনেকে রাতভর ঘুমাতে পারেননি, ঘর ছেড়ে বাইরে অপেক্ষা করেছেন পরবর্তী কম্পনের ভয়ে।সবকিছু শুরু হয়েছে ৫ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে।

জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (NCS) এবং অন্যান্য সিসমোলজিক্যাল সংস্থার তথ্য অনুসারে, ৬ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১টা ৯ মিনিটে গ্যালশিং (পশ্চিম সিকিম) এলাকায় ৪.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার, যা কম্পনকে আরও তীব্র করে তোলে। এই কম্পন গ্যাংটক, মাঙ্গান, নামচি, রাভাংলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন অংশে অনুভূত হয়।

Advertisements

ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে যমুনা অভিযানে উত্তাল ঢাকার রাজপথ

বাসিন্দারা বলছেন, হঠাৎ বিছানা কাঁপতে শুরু করে, আসবাবপত্র নড়ে ওঠে, অনেকে চিৎকার করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।এরপর থেকে শুরু হয় একের পর এক আফটারশক। NCS-এর রেকর্ড অনুসারে, ৬ ফেব্রুয়ারি ভোর পর্যন্ত মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ১২-১৩টি কম্পন রেকর্ড হয়েছে, যার মধ্যে নামচিতে ৪.০ মাত্রার একটি (সকাল ৩:১১ মিনিটে, গভীরতা ৫ কিমি), মাঙ্গানে ২.৭-২.৯ মাত্রার কয়েকটি, এবং অন্যান্য ছোটখাটো কম্পন।

এই সিরিজকে বিশেষজ্ঞরা ‘আর্থকোয়েক সোয়ার্ম’ বলছেন যেখানে একটা বড় কম্পনের পর একাধিক ছোট কম্পন ঘটতে থাকে, ফল্ট লাইনের স্ট্রেস অ্যাডজাস্টমেন্টের কারণে।আজ ৭ ফেব্রুয়ারিও থামেনি এই ধারা। সকালে নামচিতে ২.৬ মাত্রার একটি কম্পন, এবং সন্ধ্যায় গ্যাংটকের কাছে ৪.৭ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প (সন্ধ্যা ৬:০৫-এর কাছাকাছি, গভীরতা ১০ কিমি) রেকর্ড হয়েছে।

এটি গ্যাংটক, পশ্চিম সিকিম এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়। ফলে গত ৪৮ ঘণ্টায় মোট ১৭টিরও বেশি কম্পনের খবর পাওয়া গেছে।সৌভাগ্যবশত, এখনও পর্যন্ত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর নেই। কোনো বাড়ি ধসেনি, রাস্তা-সেতুতে বড় ক্র্যাক দেখা যায়নি। তবে হিমালয়ের এই সিসমিক জোন সবসময় সতর্কতার দাবি রাখে। সিকিম ভারতের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ রাজ্যগুলির একটি, মেইন হিমালয়ান থ্রাস্ট ফল্টের কাছাকাছি অবস্থিত।

২০১১ সালের ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এখানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সোয়ার্ম একটা বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নাও হতে পারে, কিন্তু এটি ফল্ট লাইনে চাপ জমার লক্ষণ।স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে। বাসিন্দাদের বলা হয়েছে, ভারী আসবাবের নীচে না থাকা, খোলা জায়গায় যাওয়া, এবং আফটারশকের জন্য প্রস্তুত থাকা। অনেক পর্যটকও এখন সতর্ক, কেউ কেউ ট্যুর শর্ট করে ফিরে যাচ্ছেন। গ্যাংটকের বাসিন্দা একজন বলেন, “রাতে ঘুম ভেঙে যায় প্রত্যেকবার কাঁপুনিতে।

মনে হয় কখন বড়টা আসবে।” আরেকজন যোগ করেন, “প্রার্থনা করছি, এটা শুধু সতর্কতা হোক, বিপদ নয়।”এই ঘটনা হিমালয় অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির অস্থিরতাকে ফের সামনে এনেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, ভুটান, নেপালের কিছু অংশেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। NCS-এর বিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে। যদি কম্পনের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ে বা মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।