মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আবারও বড় ধরনের হামলার মুখে পড়ল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE missile)। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একদিনেই অন্তত ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন ইউএই-এর দিকে ছোড়া হয়েছিল। তবে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ হামলাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
ইউএই-এর সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ছোড়া ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৫টি আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রে পড়ে যায়। একইভাবে ড্রোন হামলাও বড় আকারে প্রতিহত করা হয়েছে। মোট ১২১টি ড্রোনের মধ্যে অন্তত ১১৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি দুটি ড্রোন ইউএই-এর ভেতরে ভেঙে পড়ে।
আরও দেখুনঃ বায়ু সেনার নতুন অস্ত্র হয়ে উঠবে ডিআরডিও-র ‘ঘাতক’ UCAV
এই হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের একটি বড় পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে Iran-এর সঙ্গে যুক্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটির আকাশসীমায় মোট ২২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০৫টি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং ১৪টি সমুদ্রে পড়ে গেছে। মাত্র দুটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশের ভেতরে এসে পড়েছে।
ড্রোন হামলার পরিসংখ্যান আরও বড়। যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১,৩০৫টি ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১,২২৯টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তবে ৭৬টি ড্রোন ইউএই-এর বিভিন্ন এলাকায় এসে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আটটি ক্রুজ মিসাইল শনাক্ত করা হয়েছিল, যেগুলিও সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় যে ইউএই-এর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং বেশিরভাগ হামলাই সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
তবে এত বড় আকারের হামলার পরেও কিছু ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়নি। এই হামলায় তিনজন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি, একজন নেপালি এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও অন্তত ১১২ জন আহত হয়েছেন, যদিও তাদের অধিকাংশেরই আঘাত তুলনামূলকভাবে সামান্য। আহতদের মধ্যে ইউএই-এর নাগরিকদের পাশাপাশি মিশর, ইথিওপিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, এরিত্রিয়া, লেবানন, আফগানিস্তান, বাহরিন, কোমোরোস এবং তুরস্কের নাগরিকরাও রয়েছেন।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে এত বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বহু বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন, ফলে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।



















