‘মৃত্যু পর্যন্ত মমতার পাশেই থাকব’! নন্দীগ্রামের স্মৃতিচারণায় জয় গোস্বামী

কলকাতা: নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে হাঁসখালি ধর্ষণকাণ্ড, বিভিন্ন ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী। পাশাপাশি, নন্দীগ্রামের সেই রক্তাক্ত রাতের এক অজানা ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
joy goswami praises mamata

কলকাতা: নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে হাঁসখালি ধর্ষণকাণ্ড, বিভিন্ন ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করলেন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী। পাশাপাশি, নন্দীগ্রামের সেই রক্তাক্ত রাতের এক অজানা ইতিহাসও তুলে ধরলেন তিনি। অন্যদিকে, এই একই মঞ্চ থেকে কবির হেনস্থা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকেও।

নন্দীগ্রামের সেই ভয়াল রাত

মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই এদিন ১৪ মার্চের নন্দীগ্রাম গুলিচালনার রাতের স্মৃতিচারণা করেন জয় গোস্বামী। তিনি জানান, সেই রাতে খবর পাওয়া মাত্রই গাড়িতে করে নন্দীগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গী ছিলেন শিল্পী কবীর সুমন।

   

কবির কথায়, “তৎকালীন সরকারের পুলিশ রাস্তায় তিনবার তাঁদের বাধা দেয়। এরপর তিনি (মমতা) খোদ প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে ফোন করেন। তিনবার রাস্তা ক্লিয়ার করে রাত পৌনে ৪টের সময় তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। তখন একটার পর একটা লোক মারা যাচ্ছেন। এরপর ভোর ৫টায় তিনি নন্দীগ্রামে পৌঁছান।”

মহাশ্বেতা দেবীর বাড়ির স্মৃতি joy goswami praises mamata

মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রতি নিষ্ঠা বোঝাতে মহাশ্বেতা দেবীর বাড়িতে ঘটা আরও একটি ঘটনার কথা এদিন তুলে ধরেন জয়। তিনি বলেন, “রাত তখন ১১টা ১৫ মিনিট। মমতা মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছিলেন। আমি বললাম, ‘বাড়ি যাবেন তো মমতা?’ উনি বললেন, ‘নন্দীগ্রাম যাব।’ আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘এখন?’ উনি মুড়ি খেতে খেতে শান্ত গলায় বললেন, ‘কাজ করা ছাড়া আর আমাদের কী করার আছে জয়দা?'”

হাঁসখালি ধর্ষণকাণ্ডে ন্যায়বিচারের নেপথ্যেও মুখ্যমন্ত্রীর বড় ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করে জয় গোস্বামী স্পষ্ট জানান, “মৃত্যু পর্যন্ত মমতা যেখানে থাকবেন, আমি থাকব। তাঁর পাশেই আমি থাকব।”

‘এসআইআর’-এর নামে কবিকে হেনস্থা! সরব মমতা

জয় গোস্বামীর এই বক্তব্যের পরই তাঁকে হেনস্থার একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর (SIR)-এর নাম করে কবি জয় গোস্বামীকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই এসআইআরে উনিও ভিক্টিম। ওঁকেও হেয়ারিংয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। এটা ইনসাল্ট (অপমান) ছাড়া আর কিছু নয়। হিউমিলিয়েশন ছাড়া আর কিছু নয়।” এই প্রসঙ্গের পরেই মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মমতাবালা ঠাকুরকে তাঁর বক্তব্য রাখার জন্য আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google