ভোটের আগে রাজভবনে রদবদল! সিভি আনন্দ বোসের জায়গায় আরএন রবি, কে তিনি?

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক। সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফার পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত হলেন তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আর এন রবি (RN ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
RN Ravi West Bengal Governor

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক। সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফার পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত হলেন তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আর এন রবি (RN Ravi)। আর এই নিয়োগ ঘিরেই ইতিমধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত’, ক্ষুব্ধ মমতা

রাজ্যপাল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথা না মানার অভিযোগ তুলে সরাসরি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে ফোন করে আর এন রবির নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু প্রচলিত প্রথা মেনে এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আগে থেকে কোনও আলোচনাই করা হয়নি।

   

মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী এবং আমাদের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভিত্তিমূলে সরাসরি আঘাত। কেন্দ্রের উচিত সমবায় যুক্তরাষ্ট্রীয় (Cooperative Federalism) নীতিকে সম্মান করা। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং রাজ্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে, এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে তাদের বিরত থাকা উচিত।”

কে এই আর এন রবি? RN Ravi West Bengal Governor

তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি বা আর এন রবি আদতে ১৯৭৬ ব্যাচের কেরালা-ক্যাডারের একজন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস (IPS) অফিসার। পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর করার পর তিনি পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। সিবিআই (CBI) এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতেও (IB) তাঁর কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে (PMO) জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৮ সালে উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি নাগাল্যান্ড এবং মেঘালয়ের রাজ্যপাল হিসেবেও কাজ করেছেন।

স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস

তামিলনাড়ুতে এমকে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে (DMK) সরকারের সঙ্গে রাজ্যপাল রবির সম্পর্ক একেবারেই মধুর নয়; বরং বারবার তিনি খবরের শিরোনামে এসেছেন রাজ্য সরকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে৷ রাজ্য বিধানসভায় পাস হওয়া একাধিক বিলে সম্মতি দিতে বিলম্ব করার কারণে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন বারবার তাঁকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে কটাক্ষ করেছেন। গত মাসেই বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতে রাজ্য সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর দাবিতে অনড় থেকে প্রথাগত উদ্বোধনী ভাষণ এড়িয়ে যান রবি। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট দোষী সাব্যস্ত হওয়ার নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিলেও, কে পনমুডিকে মন্ত্রিসভায় ফেরাতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

২০২৩ সালে মুখ্যমন্ত্রীর কোনওরকম পরামর্শ ছাড়াই রাজ্যের মন্ত্রী ভি সেন্থিল বালাজিকে তিনি বরখাস্ত করেন। যদিও বিতর্কের জেরে সেই দিনই নিজের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন রবি। তামিলনাড়ুর এই অতীত ট্র্যাক রেকর্ড দেখার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার মাটিতেও নবান্ন বনাম রাজভবন সংঘাত এক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।