
টরন্টো: খালিস্তানি উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে সরব হতেন তিনি। কোনো ধরণের উগ্রবাদ দেখলেই করতেন প্রতিবাদ (Nancy Grewal)। বিখ্যাত সেই ইউটিউবার ন্যান্সি গ্রেওয়ালকে নৃশংস ভাবে হত্যা করল খালিস্তানীরা। মৃত্যুর আগেও একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছিলেন খালিস্তানীরা কানাডা, আমেরিকা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে এবং তিনি কানাডাকে যথেষ্ট সুরক্ষিত মনে করছেন না। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লা স্যাল শহরে (উইন্ডসরের কাছে) একটি শান্ত আবাসিক এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটেছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে টড লেনের ২৪০০ ব্লকে তার বাড়িতে এই হামলা হয়। পুলিশ ও প্যারামেডিকরা দ্রুত পৌঁছে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। লা স্যাল পুলিশ এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে, কিন্তু এখনও কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা যায়নি। ন্যান্সি গ্রেয়াল পাঞ্জাবি বংশোদ্ভূত ছিলেন এবং কানাডায় বসবাস করতেন।
আরও দেখুনঃ মুম্বইয়ে টসে হার ভারতের, প্রথমে সূর্যদের ব্যাট করতে পাঠালেন ইংরেজ অধিনায়ক
তার ইউটিউব চ্যানেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি খুবই সক্রিয় ছিলেন। পাঞ্জাবি ভাষায় ভিডিও করে তিনি সোশ্যাল, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় বিষয়ে খোলামেলা মতামত দিতেন। বিশেষ করে খালিস্তানি উগ্রবাদের বিরুদ্ধে তার কথা ছিল খুবই কঠোর। তিনি গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুনের মতো খালিস্তানি নেতাদের সমালোচনা করতেন, অমৃতপাল সিং, বিক্রম সিং মজিঠিয়া এবং অন্যান্যদের নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন।
ভারত-কানাডা সম্পর্কের উত্তেজনা, জাস্টিন ট্রুডোর নীতি এবং খালিস্তানি আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে তার ভিডিওগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। অনেকে তাকে “সাহসী শিখ কণ্ঠ” বলে প্রশংসা করতেন, কারণ তিনি নিজের সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকেই উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন।তবে এই সাহসের দামও দিতে হয়েছে। ন্যান্সির মা শিন্দরপাল কৌর বলেছেন, “তার একমাত্র দোষ ছিল সত্যি কথা বলা।”
তিনি জানিয়েছেন যে মেয়ে নিয়মিত হুমকি পেতেন। খালিস্তানি সমর্থকদের থেকে অনেকবার মৃত্যুর হুমকি আসত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে গালাগালি, অপমান এবং হুমকি দেওয়া হতো। ন্যান্সি নিজেও একাধিকবার পোস্ট করে বলেছিলেন যে তিনি ভয় পান না, কিন্তু তার জীবন বিপদে। তার সমর্থকরা বলছেন, এই হত্যা তার সমালোচনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কেউ কেউ এটাকে টার্গেটেড হত্যা বলে মনে করছেন। তবে পুলিশ এখনও এই দিকে নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। তারা বলছে, তদন্ত চলছে, প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

