যুদ্ধের আবহেই আমেরিকার ‘ডুমসডে মিসাইল’ পরীক্ষা! কতটা ভয়ঙ্কর এই ক্ষেপণাস্ত্র?

কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে এবং সংঘাত ষষ্ঠ দিনে পা দিয়েছে, ঠিক তখনই এক চরম ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের মহড়া দিল আমেরিকা। হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়ে ২০ গুণ ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
US Minuteman III ICBM test

কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে এবং সংঘাত ষষ্ঠ দিনে পা দিয়েছে, ঠিক তখনই এক চরম ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের মহড়া দিল আমেরিকা। হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘মিনিটম্যান ৩’ (Minuteman III) ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM)-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ধ্বংস ক্ষমতার কারণে এই মিসাইলটি বিশ্বজুড়ে ‘ডুমসডে মিসাইল’ (Doomsday Missile) বা ‘প্রলয়ঙ্কারী ক্ষেপণাস্ত্র’ নামে পরিচিত।

উৎক্ষেপণের খুঁটিনাটি

মার্কিন স্পেস ফোর্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে এই অস্ত্রহীন ‘মিনিটম্যান ৩’ আইসিবিএম-টি উৎক্ষেপণ করা হয়। এতে দুটি পরীক্ষামূলক রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (Re-entry vehicles) যুক্ত ছিল।

   

লক্ষ্যভেদ: ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রওনা হয়ে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে পশ্চিম-মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কাছে তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে এই মিসাইলটি।

মার্কিন সেনার দাবি: স্পেস ফোর্সের মতে, জিটি-২৫৫ (GT-255) নামের এই পরীক্ষামূলক যানটির উৎক্ষেপণ দীর্ঘদিনের রুটিন মূল্যায়নের অংশ। সরকারিভাবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সঙ্গে এর কোনো সরাসরি যোগসূত্র নেই।

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও একবার এই মিসাইলের পরীক্ষা করেছিল আমেরিকা।

কেন একে ‘ডুমসডে’ বা প্রলয়ঙ্কারী মিসাইল বলা হয়? US Minuteman III ICBM test

মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রাগারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো এই মিনিটম্যান ৩। এর বিধ্বংসী ক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ একে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর অস্ত্রে পরিণত করেছে৷ এটি হিরোশিমার বোমার চেয়ে ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে।

এর পাল্লা প্রায় ৬,০০০ মাইল। এটি ঘণ্টায় ১৫,০০০ মাইলেরও বেশি বেগে (হাইপারসনিক গতিতে) ছুটতে পারে। অর্থাৎ, চোখের নিমেষে এটি এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশের যেকোনো নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম।

পুরনো মিসাইলগুলোর মতো নয়, এটি কঠিন জ্বালানিতে (Solid fuel) চলে। ফলে এটিকে সব সময় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা যায় এবং নির্দেশ পাওয়া মাত্রই মাটির তলার সাইলো (Silo) থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব।

এটি ‘মাল্টিপল ইন্ডিপেনডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল’ (MIRV) প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যার মানে হলো, একটিমাত্র মিসাইল ছুড়েই আলাদা আলাদা একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে একই সঙ্গে আঘাত হানা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ষষ্ঠ দিন এবং মার্কিন সেনেটের সিদ্ধান্ত

আমেরিকা যখন নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতার জানান দিচ্ছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।

যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে ইজরায়েলের দিকে একের পর এক মিসাইল ছুড়েছে ইরান। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বোমা হামলা থেকে বাঁচতে শেল্টারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং ইজরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে বেজে উঠেছে এয়ার রেইড সাইরেন।

ইরানের ওপর আমেরিকার বিমান হামলা বন্ধ করার জন্য মার্কিন সেনেটে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন। ৫৩-৪৭ ভোটে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা অটুট রইল।

সামগ্রিকভাবে, একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যে মিসাইল হামলা এবং নৌ-সংঘাত বাড়ছে, তেমনই কূটনৈতিক আলোচনার পথও ক্রমশ বন্ধ হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার ‘ডুমসডে মিসাইল’-এর পরীক্ষা বিশ্ব রাজনীতিতে এক বড়সড় বার্তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।