খামেনেই মৃত্যুর প্রতিবাদ করতে গিয়ে পাক সেনার গুলিতে রক্তাক্ত গিলগিট-বালতিস্তান

ইসলামাবাদ: পাকিস্তান অধিকৃত গিলগিট-বালতিস্তানে (Gilgit Baltistan) চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্কার্দু ও গিলগিটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সরাসরি গুলিতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে খবর, যাদের মধ্যে ছয়জন ছোট ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
gilgit-baltistan-protest-pakistan-army-firing-after-ali-khamenei-death

ইসলামাবাদ: পাকিস্তান অধিকৃত গিলগিট-বালতিস্তানে (Gilgit Baltistan) চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্কার্দু ও গিলগিটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সরাসরি গুলিতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে খবর, যাদের মধ্যে ছয়জন ছোট শিশু। এই ঘটনা ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই হত্যার প্রতিবাদে চলা অ্যান্টি-ইউএস/ইসরায়েল এবং প্রো-ইরান বিক্ষোভের সময় ঘটেছে।

বিক্ষোভকারীরা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানাতে রাস্তায় নেমেছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি হিংসাত্মক হয়ে ওঠায় পাকিস্তানি সেনা লাইভ ফায়ারিংয়ের আদেশ দেয়। এর ফলে নিরীহ বিক্ষোভকারী, এমনকি শিশুরাও প্রাণ হারিয়েছে।এই ঘটনার পর গিলগিটের দানিয়োর চক-এ হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দিচ্ছেন।

   

আরও দেখুন: যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের রফতানি বন্ধ করল ইরান

“আসিম মুনির মুর্দাবাদ”, “শেহবাজ শরিফ মুর্দাবাদ”, “পাকিস্তানি সেনা দমনকারী”, “আজাদি চাই” ইত্যাদি স্লোগানে এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমনমূলক নীতি এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু বিক্ষোভ দমন নয়, বরং গিলগিট-বালতিস্তানের মানুষের ওপর দীর্ঘদিনের অবিচারের প্রতিফলন।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল।

শিয়া সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ বাসিন্দা খামেনির মৃত্যুতে শোকাহত ছিলেন এবং মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানাতে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভকারীরা ইউএন অফিস, পুলিশ স্টেশন এবং অন্যান্য সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর পাকিস্তানি প্যারামিলিটারি ফোর্স এবং সেনা গুলি চালায়। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে অনেকের গুলির আঘাতে মৃত্যু হয়েছে।

শিশুদের মৃত্যুতে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।দানিয়োর চক-এর প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এক স্থানীয় যুবক বলেন, “আমরা ইরানের নেতার জন্য শোক প্রকাশ করতে এসেছিলাম, কিন্তু পাকিস্তানি সেনা আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছে। ছয়টা ছোট বাচ্চা মারা গেছে! এটা কোনো ধর্মীয় রাষ্ট্র? আমরা আর সহ্য করব না। আসিম মুনির আর শেহবাজ শরিফের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।”

অনেকে পাকিস্তান সরকারকে “আমেরিকার দালাল” বলে অভিহিত করছেন, কারণ তারা মনে করেন পাকিস্তানি নেতৃত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে খামেনির হত্যায় পরোক্ষভাবে জড়িত।পাকিস্তান সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিলগিট ও স্কার্দুতে সেনা মোতায়েন করেছে এবং রাত্রিকালীন কার্ফু জারি করেছে। বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে প্রতিবাদকারীরা ছত্রভঙ্গ হচ্ছে না। এই ঘটনা পিওজিবিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, গিলগিত-বালতিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচার, অধিকার হরণ এবং অর্থনৈতিক অবহেলা চলছে। খামেনির মৃত্যু এই ক্ষোভের বিস্ফোরণের কারণ হয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.