মণিপুর থেকে গ্রেফতার নওয়াজ শরিফ

nawaz-sharif-arrested-manipur-brown-sugar-drug-trafficking-case

মণিপুর থেকে একটি বড় মাদক পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (Nawaz Sharif)। ধৃত ব্যক্তির নাম নওয়াজ শরিফ। পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই নওয়াজ শরিফ মণিপুরের থৌবাল জেলার বাসিন্দা, একজন স্থানীয় যুবক যিনি আন্তঃরাজ্য ব্রাউন সুগার পাচার চক্রের কিংপিন হিসেবে কাজ করছিলেন। মালদা জেলা পুলিশের সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই গ্রেফতার মালদা পুলিশ এবং মণিপুর পুলিশের যৌথ অভিযানের ফল।

প্রথমে কলকাতা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয় মাদক পাচারের মামলায়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে মণিপুরের এই চক্রের নাম। তথ্যের ভিত্তিতে মালদা পুলিশ মণিপুরে গিয়ে থৌবাল জেলার কিয়ামকেই এলাকা থেকে নওয়াজ শরিফকে গ্রেফতার করে। তিনি মণিপুর থেকে বিমানযোগে কলকাতায় আসতেন এবং সেখান থেকে ব্রাউন সুগার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাচার করতেন। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই চক্র মিয়ানমার সীমান্ত থেকে মাদকের কাঁচামাল সংগ্রহ করে মণিপুরে প্রসেস করে পশ্চিমবঙ্গে পাঠাত।

   

আরও দেখুন: বুথের ভিতরেই নয়, বাইরেও সিসিটিভি! কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কড়া বার্তা কমিশনের

গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসি-ঠাট্টা এবং বিস্ময়ের ঝড় ওঠে। অনেকে মিম বানিয়ে পোস্ট করেছেন ‘পাকিস্তানের নওয়াজ শরিফ মণিপুরে মাদক পাচার করছিলেন নাকি?’ কেউ কেউ লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে ধরে ফেলল!’ পুলিশকে বারবার স্পষ্ট করতে হয়েছে যে, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। ধৃত নওয়াজ শরিফের বয়স প্রায় ২০-৩০-এর মধ্যে, এবং তিনি মণিপুরের স্থানীয় বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই নামের কারণে তিনি হয়তো নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে সুবিধা পেয়েছিলেন, কিন্তু এখন তা তার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযানে পুলিশ মাদক তৈরির কাঁচামাল, ব্রাউন সুগারের বড় চালান এবং অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধার করেছে। মালদা পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্র উত্তর-পূর্বের অশান্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মাদক পাচারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

মণিপুর থেকে কলকাতা হয়ে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং অন্যান্য সীমান্ত জেলায় মাদক পৌঁছাত। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নওয়াজ শরিফ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন। তার গ্রেফতারে চক্রের অনেক লিঙ্ক উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মণিপুরের থৌবাল এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, এ ধরনের মাদক চক্র স্থানীয় যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। একজন স্থানীয় যুবক বলেন, “আমাদের এলাকায় মাদকের ছড়াছড়ি বেড়েছে। পুলিশের এই অভিযান সত্যিই স্বস্তির। কিন্তু নামটা শুনে সবাই হাসাহাসি করছে।” মালদায়ও অনেকে বলছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধ করা জরুরি, কারণ এতে যুবকরা নষ্ট হচ্ছে।