খামেনেই র মৃত্যুতে যোগী রাজ্যে পালন হল অকাল মহরম

early-muharram-mourning-lucknow-after-ali-khamenei-death-reports

লখনউ: অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ আক্রমণে বিধ্বস্ত ইরান (Early Muharram)। আক্রমণে নিহত হয়েছেন ইরানের ধর্মীয় প্রধান আয়াতুল্লাহ খামেনেই। এই আবহেই শুধু ইরান নয় প্রতিবাদ চলছে ভারত এবং বাংলাদেশেও। খামেনেই মৃত্যুর প্রতিবাদে এবার খোদ যোগী রাজ্যের মুসলিমরা পালন করলেন অকাল মহরম। ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় শিয়া সম্প্রদায়ের কিছু ১৩-১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের দেখা গেছে গভীর শোকে নিজেদের শরীরে আঘাত করতে।

ব্লেড দিয়ে কাটা, লোহার চেইন দিয়ে মারা এবং এমনকি টিউবলাইট ভেঙে নিজেদের আহত করার মতো চরম কাজ করতে। এই দৃশ্যগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে অবাক হয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন যে, এত তীব্র শোক কীভাবে এই বয়সের শিশুদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। খামেনেই র মৃত্যু হয়েছে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায়।

   

আরও দেখুন: বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারত-পাক সীমানায় ভেঙে পড়ল রহস্যময় বিমান

ইরানে এই ঘটনায় শোক ও উদযাপন দুটোই দেখা গেছে, কিন্তু ভারতে শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের প্রকাশ অনেক বেশি তীব্র। লখনউ, হায়দরাবাদ, কাশ্মীর, জম্মুসহ বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার মানুষ কালো পোশাক পরে রাস্তায় নেমেছে, খামেনির ছবি হাতে নিয়ে কান্নাকাটি করেছে, স্লোগান দিয়েছে ‘আমেরিকা মুর্দাবাদ’, ‘ইসরায়েল মুর্দাবাদ’। অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল অ্যান্ড বোর্ড তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিজনৌরের এই ঘটনা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে চরমতার দিক থেকে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন কিশোর চোখে জল নিয়ে মাতম করছে। কেউ কেউ ব্লেড দিয়ে হাতে-বুকে কাটছে, রক্ত ঝরছে। অন্যরা লোহার চেইন দিয়ে নিজেদের পিঠে মারছে। একটি দৃশ্যে দেখা গেছে, একটি ছেলে টিউবলাইট ভেঙে তার টুকরো দিয়ে নিজেকে আঘাত করছে। এই ধরনের আত্ম-আঘাত শিয়া মাতমের একটি ঐতিহ্যগত অংশ, যা মহররমের সময় ইমাম হুসাইনের শাহাদাতের স্মরণে করা হয়।

কিন্তু এখানে এটি খামেনেইর মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা অনেকের কাছে অভূতপূর্ব।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কিশোররা শিয়া সম্প্রদায়ের পরিবার থেকে এসেছে। তাদের মধ্যে খামেনিকে ধর্মীয় নেতা হিসেবে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। অনেকে বলছেন, ইরানের সঙ্গে আধ্যাত্মিক যোগসূত্রের কারণে এই শোক।

এলাকার মুসলিম যুবকরা বলেছেন মুসলিম যুবকরা “আমাদের ধর্মে খামেনেই সাহেবকে অনেক সম্মান করা হয়। তার মৃত্যুতে মন ভেঙে যাচ্ছে। ছেলেরা খুব ছোট, কিন্তু তারা বুঝতে পারছে এটা কত বড় ক্ষতি।” তবে এই চরম আত্ম-আঘাত দেখে অনেকে উদ্বিগ্ন। শিশু অধিকার কর্মীরা বলছেন, এই বয়সে এমন কাজ শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর। পুলিশ ও প্রশাসন এই ঘটনার পর এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে। কোনো বড় অশান্তি না হলেও, শিশুদের এই আত্ম-আঘাত নিয়ে সচেতনতা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। ধর্মীয় নেতারা বলছেন, শোক প্রকাশ করা ঠিক, কিন্তু চরম আত্ম-হিংসা এড়ানো উচিত।