কলকাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া (Mamata Banerjee) নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট শর্ত দিয়ে বলেছেন, জমি দেওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু তার আগে কেন্দ্রকে অবশ্যই বিএসএফ-এর এলাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার বিএসএফ আইন সংশোধন করে পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটারের পরিবর্তে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অনুসন্ধান, গ্রেফতার ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেয়।
মমতা এই সিদ্ধান্তকে “অন্যায়” ও “একতরফা” বলে অভিহিত করেছেন।গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনার সময় মমতা বলেন, “জমি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আপনারা জমি পাবেন। কিন্তু তার আগে এই একতরফা নিয়ম বদলান বিএসএফ-এর এলাকা ১৫ কিলোমিটার থেকে ৫০ কিলোমিটার করার নিয়ম প্রত্যাহার করুন।”
আরও দেখুন: বাতিল বিহারের নির্বাচন! বিরাট সিদ্ধান্ত শোনাল সুপ্রিম কোর্ট
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে বিএসএফ সহ কেন্দ্রীয় সব সংস্থাকে জমি দিয়েছে। “আমরা অনেক প্রকল্পের জন্য জমি দিয়েছি। প্রথমে বলুন কতটা কাজ শেষ হয়েছে। বিএসএফ-কেও জমি দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ করুন, তারপর আরও জমি দেব।”মমতা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, অমিত শাহ সম্প্রতি দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত ফেন্সিংয়ের জন্য জমি দিচ্ছে না এটা “তথ্যের নির্বাচিত উপস্থাপনা”।
মমতা বলেন, “কেন্দ্র পুরো তথ্য দিচ্ছে না। রাজ্য যে জমি দিয়েছে, তার পুরো হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে না।” তিনি জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেন, কিন্তু রাজ্যের অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ মেনে নেবেন না।এই বিতর্কের পটভূমি অনেক পুরনো। কেন্দ্র দাবি করে, বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৫৬৩ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিং অসম্পূর্ণ রয়েছে, যার ফলে অনুপ্রবেশের সমস্যা বাড়ছে।
অমিত শাহ সম্প্রতি বলেছেন, রাজ্য সরকার সাতবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও জমি দিচ্ছে না। কলকাতা হাইকোর্টও সম্প্রতি নির্দেশ দিয়েছে যে, নয়টি সীমান্ত জেলায় অধিগ্রহীত জমি ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে বিএসএফ-কে হস্তান্তর করতে হবে। বিজেপি এই রায়কে হাতিয়ার করে বলছে, মমতা সরকার আদালতের নির্দেশও মানবে না এবং অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে দেখছে।
মমতা অবশ্য এসব অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা কেন্দ্রের দায়িত্ব। বিএসএফ কেন্দ্রের অধীনে, তাই অনুপ্রবেশের দায় কেন্দ্রকেই নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, রাজ্য জমি দিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো কাজ শেষ করেনি। ৫০ কিলোমিটারের এলাকা বাড়ানোর ফলে রাজ্য পুলিশের কাজে হস্তক্ষেপ হচ্ছে, যা সংবিধানসম্মত নয়।




















