ইরানে এয়ার স্ট্রাইক শুরু করল আমেরিকা-ইসরায়েল

israel-us-preemptive-strike-on-iran-middle-east-crisis

একদিকে যেমন পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে তালিবানরা। (strike on Iran)ঠিক এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইরানে আগেই যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল আমেরিকা। শনিবার সকাল থেকেই আমেরিকার দোসর হয়ে ইরানে লাগাতার এয়ার স্ট্রাইক শুরু করল ইসরায়েল,সঙ্গে যোগ দিয়েছে মার্কিন বাহিনীও।

সূত্রের খবরে জানা যাচ্ছে ইসরাইল সরকার এই অভিযানকে ‘প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক’ বা আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ বলেছেন, “আমাদের রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য হুমকি প্রতিরোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল, তা দূর করতেই এই হামলা।

   

আরও দেখুন: ইরানে এয়ার স্ট্রাইক শুরু করল আমেরিকা-ইসরায়েল

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরাইলের বিভিন্ন শহরে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত নিকটবর্তী বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের কাছে থাকার পরামর্শ দেয়। বার্তায় জানানো হয়, “নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন এবং নিজের এলাকার সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল সম্পর্কে সচেতন থাকুন।” ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে এই সামরিক উত্তেজনার পটভূমিতে রয়েছে ইরান-আমেরিকা পারমাণবিক আলোচনা। স্থানীয় সময় শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জেনেভায় তৃতীয় দফা আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। কিন্তু তারা যেভাবে আলোচনা করছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই।” তাঁর দাবি, আমেরিকার শর্ত অনুযায়ী ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করতে রাজি হয়নি। যদিও তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে চান না, তবুও প্রয়োজনে তা করতে দ্বিধা করবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে। আমি চাই না সেটি ব্যবহার করতে। কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে তা ব্যবহার করতেই হয়।”

জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা ঘিরে শুরু থেকেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন ছিল। তেহরান দাবি করেছিল, তারা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ বরাবরই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ইরান গোপনে অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। ফলে আলোচনার টেবিলে আস্থা ও অবিশ্বাসের মিশ্র আবহ তৈরি হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আগাম হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানালে পুরো অঞ্চল জুড়ে বড় আকারের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। লেবানন, সিরিয়া ও গাজা উপত্যকার পরিস্থিতিও এতে প্রভাবিত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ইসরাইলের নাগরিকরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন, আর ইরানেও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় মানুষ দুশ্চিন্তায়। আন্তর্জাতিক মহল ইতিমধ্যে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক সংস্থা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।