
উত্তরাখন্ড: উত্তরাখণ্ডে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা বড় পরিবর্তনের সূচনা হল। পুষ্কর সিং ধামি সরকার মাদ্রাসা বোর্ডকে (Uttarakhand)সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সরকার উত্তরাখণ্ড স্টেট মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি (USMEA) গঠনের নোটিফিকেশন জারি করেছে। এই অথরিটি জুলাই ২০২৬ থেকে মাদ্রাসা বোর্ডের সব দায়িত্ব নেবে, এবং রাজ্যে মাইনরিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক ছাতার তলায় আনবে।
মুখ্যমন্ত্রী ধামি এটাকে ‘শিক্ষা সংস্কারের জয়’ বলে অভিহিত করেছেন, যা র্যাডিক্যালিজমের বিরুদ্ধে একটা স্পষ্ট বার্তা।এই সিদ্ধান্তের পটভূমি দীর্ঘদিনের। গত বছরের অক্টোবরে উত্তরাখণ্ড মাইনরিটি এডুকেশন বিল ২০২৫ পাস হয়, যা গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুরমিত সিং (অব:) অনুমোদন করেন। এই বিলে মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে, এবং সব মাইনরিটি প্রতিষ্ঠানকে উত্তরাখণ্ড বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশনের অধীনে আনতে হবে।
আরও দেখুন: যোগী রাজ্যে শাহজাদের অত্যাচারে বাড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে হিন্দুদের
জুলাই থেকে কোনও মাদ্রাসা স্বাধীন সিলেবাস চালাতে পারবে না শুধু সরকার অনুমোদিত সিলেবাস, ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক এবং নতুন শিক্ষানীতি অনুসরণ করতে হবে। এতে শিক্ষার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে সরকার দাবি করছে।অথরিটির গঠনও বিতর্কিত। রিটায়ার্ড প্রফেসর সুরজিত সিং গান্ধীকে প্রথম চেয়ারম্যান করা হয়েছে। মোট সদস্য সংখ্যা ৮-১২ যাদের মধ্যে শুধু ২ জন মুসলিম।
অন্য সদস্যরা রাকেশ জৈন, সৈয়দ আলি হামিদ, পেমা তেনজিন, এলবা মেড্রিলে, রবিনা আমান, গুরমিত সিং প্রমুখ। সরকার বলছে, সব মাইনরিটি কমিউনিটির শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, মুসলিম প্রতিনিধিত্ব খুব কম, যা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশ্ন তুলছে।এর আগে ধামি সরকার ২৫০-এরও বেশি অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে।
অনেক মাদ্রাসা অবৈধভাবে চলছিল, কোনও অনুমোদন ছাড়াই। সরকারের অভিযানে এগুলো সিল করে দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ আসে। ধামি বলেছেন, “আমরা শিক্ষাকে র্যাডিক্যালিজমের হাতিয়ার হতে দেব না। সব শিশুর জন্য একই মানের, আধুনিক শিক্ষা চাই।” এই পদক্ষেপকে তিনি ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এই সিদ্ধান্ত ভারতে প্রথম কোনও রাজ্য মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে মাইনরিটি শিক্ষাকে মূলধারায় আনেনি। অনেকে এটাকে শিক্ষা সংস্কারের জয় বলছেন, কারণ এতে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে আসবে, সিলেবাস আধুনিক হবে। কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ উদ্বিগ্ন। তারা বলছেন, এতে ধর্মীয় শিক্ষার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, এবং মাদ্রাসায় পড়া শিশুদের পরিচয় ও সংস্কৃতি হারাতে পারে। বিরোধী দলগুলো এটাকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে সমালোচনা করছে।













