নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে আজ এক অভূতপূর্ব মুহূর্তের সাক্ষী হল দেশ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)দায়ের করা SIR (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত তাঁকে সরাসরি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বিচারপতি বলেছেন, “আপনার এই মামলার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা উঠে এসেছে, যা আমরা বিবেচনা করছি।”
এই কথা শুনে আদালতকক্ষে একটা নীরবতা নেমে আসে, কারণ এমন প্রশংসা সাধারণত দেখা যায় না বিশেষ করে যখন মামলাটি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।আজ, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে (বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পঞ্চোলি সহ) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজের মামলায় সওয়াল করার অনুমতি চেয়েছিলেন, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম।
কোনো বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শীর্ষ আদালতে নিজে আইনজীবীর ভূমিকায় দাঁড়িয়েছেন। যদিও তিনি পুরোপুরি আর্গুমেন্ট না করলেও, তাঁর উপস্থিতি এবং বক্তব্য আদালতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। মমতা বলেছেন, “আমি ন্যায়ের জন্য লড়ছি। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” তিনি SIR-কে ‘অমানবিক’ বলে বর্ণনা করেছেন, যাতে বয়স্ক, অসুস্থ ও দূরবর্তী এলাকার মানুষরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
প্রধান বিচারপতির এই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের পিছনে রয়েছে মামলার মূল বিষয়বস্তু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিটিশনে দাবি করা হয়েছে যে SIR প্রক্রিয়ায় ১.৩৬ কোটিরও বেশি ভোটারের ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ চিহ্নিত করা হয়েছে, কিন্তু তার কারণ স্পষ্ট নয়। নামের বানানের ছোট ভুল, পুরনো তালিকার সঙ্গে মিল না হওয়া বা প্রজেনি ম্যাপিং-এ অসঙ্গতি এসবকে বড় করে দেখিয়ে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, যা ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে।
আদালতে উঠে এসেছে যে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ডের মতো প্রমাণপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না, এবং ৮,৩০০ মাইক্রো অবজার্ভারের নিয়োগ অসাংবিধানিক। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, এই মামলায় উঠে আসা এসব প্রশ্নগুলো গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভকে স্পর্শ করছে। তাই তিনি মমতার উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা আদালতকে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনায় সাহায্য করেছে।




















