কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন রাজ্যের অনেক সরকারি কর্মী ও আধিকারিক। সেই সকল শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বড়সড় ঘোষণা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা। গত কয়েক মাসে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন মৃত ৬১ জন কর্মীর পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।
মানবিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, এনআরসি (NRC) আতঙ্ক এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত বিএলও (BLO) থেকে শুরু করে অন্যান্য আধিকারিকরা পাহাড়প্রমাণ মানসিক চাপের মধ্যে কাজ করছেন। নাগরিকত্ব হারানোর ভয় এবং নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কর্মীরাও চরম উদ্বেগের শিকার হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, এই চাপের কারণেই অনেকে আত্মহত্যা করেছেন বা অকালমৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। সেই সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই অসহায় পরিবারগুলোর পাশে থাকবে সরকার। এবার সেই কথা মেনেই কর্মসংস্থানের পথে হাঁটল রাজ্য।
কারা পাবেন এই নিয়োগ? government job compensation
নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শুধুমাত্র সেই সকল পরিবারই এই সুবিধা পাবেন, যাঁদের সদস্য সরকারি কাজ (SIR) করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য নয়। প্রাথমিকভাবে এমন ৬১টি পরিবারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মৃত কর্মীর পরিবারের যোগ্য একজন সদস্যকে সরকারি পদে নিয়োগ করা হবে। যদিও কোন দফতরে বা কবে এই নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সময়সীমা জানানো হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার স্তরে রয়েছে এবং দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাল প্রকাশিত হচ্ছে চূড়ান্ত তালিকা
দীর্ঘ টালবাহানা ও আদালতের হস্তক্ষেপের পর আগামীকাল, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে চলেছে ভোটার তালিকার চূড়ান্ত রূপ (Final List)। তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আগামীকাল তালিকা প্রকাশের পরেও বেশ কিছু অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতে পারে।
রাজ্যের যুক্তি হলো, সরকারি কাজ করতে গিয়ে অনেক আধিকারিকের অকাল মৃত্যুতে তাঁদের পরিবারগুলি অথৈ জলে পড়েছে। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে মানুষটিকে হারিয়ে তাঁরা দিশেহারা। এমতাবস্থায় মানবিকতার খাতিরেই এই দ্রুত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




















