ইসলামাবাদ: সাত সকালে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ। সমস্ত এলাকায় ছড়াল চাঞ্চল্য। (Balochistan)সোমবার সকালে পাকিস্তান সেনার একটি কনভয় পাক অধিকৃত বালুচিস্তানের উদ্দেশে যাচ্ছিল। হঠাৎ মারাত্মক একটি বিস্ফোরণে পুরো কনভয় উড়ে গেল পাক সেনা বাহিনীর। বালোচ বিপ্লবীরা দাবি করেছে যে, এটা ছিল ‘অপারেশন হেরোফ ফেজ-২’ এর অংশ। একই দিনে একাধিক জায়গায় সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সেনা কনভয়, পুলিশ স্টেশন, প্রিজন, ব্যাঙ্ক, এমনকি সরকারি অফিসও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বিএলএ-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাক সেনার কনভয়ে ভারী অস্ত্র, আরপিজি, স্নাইপার আর আইইডি ব্যবহার করে আঘাত করা হয়েছে। ফলে অনেক সেনা যান ধ্বংস হয়েছে, কয়েকটা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিপ্লবীরা দাবি করছে, এতে ৮০-এর বেশি পাকিস্তানি সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।
দিল্লিতে মেগা বৈঠক: আজ কমিশনের মুখোমুখি মমতা, আর কারা যাবেন?
এছাড়া ১৮ জনকে বন্দি করা হয়েছে বলেও খবর। কয়েকটা জায়গায় সরকারি সম্পত্তি দখল বা ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও সরকারের দিক থেকে অবশ্য ভিন্ন ছবি আঁকা হচ্ছে। তারা বলছে, এই আক্রমণগুলো ‘জঙ্গি’দের কাজ, এবং ভারতের সমর্থনপুষ্ট। পাক সেনা দ্রুত পালটা অভিযান চালিয়েছে, যাতে ১৪৫ জনেরও বেশি ‘জঙ্গি’কে মেরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি।
শনিবারের আক্রমণে ১৫-১৭ জন পাক সেনা ও ১৮-৩১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে নারী-শিশু-বৃদ্ধরাও রয়েছে। পাকিস্তানি মিডিয়া ও আধিকারিকরা বলছেন, এটা দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক দিন ছিল বিদ্রোহীদের জন্য। কাউন্টার অপারেশনে ৯২ জন বিদ্রোহীকে মারা হয়েছে শুধু একদিনে। বালোচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অশান্ত। এখানকার মানুষ মনে করে, পাকিস্তান সরকার তাদের সম্পদ লুট করছে গ্যাস, খনিজ, সমুদ্রসীমা কিন্তু উন্নয়নের নামে শুধু শোষণ চলছে।
সেনাবাহিনীর অত্যাচার, গুম, জোর করে অদৃশ্য করা এসবের বিরুদ্ধে বিএলএ-র মতো গ্রুপ লড়াই করে আসছে। এই আক্রমণের পিছনে সেই ক্ষোভই কাজ করছে। বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপেক) প্রকল্পের কারণে চীনা নাগরিকদের উপরও আক্রমণ বেড়েছে। গত বছরগুলোতে চীনা ইঞ্জিনিয়ারদের কনভয়ে হামলা হয়েছে একাধিকবার।



