নয়াদিল্লি: আজকের কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget)আয়ুর্বেদ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত তাতে ব্রাত্য থাকল কেরল। কেরল এবং আয়ুর্বেদ যেন জন্মজন্মান্তর ধরে একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। কিন্তু বাজেটে কেরলে আয়ুর্বেদ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা না থাকায় আশ্চর্য হয়েছেন কেরলের বিরোধী দলনেতা শশী থারুর। তবে সংসদের বাইরে বেরিয়ে তিনি হালকা চলে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন কেরলে আয়র্বেদের প্রসার হলে ভালো হত।
তার সঙ্গে তিনি যোগ করেন বাজেটের ভাষণে বেশি কিছু বোঝা যায় না। তিনি আরও বিশদে বাজেট পড়বেন তারপর মন্তব্য করবেন। থারুরের এই মন্তব্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কংগ্রেস নেতৃত্ব শশীকে কটাক্ষ করে বলেছেন যে থারুর মোদী প্রেমী তাই তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে সেফ ব্যাটিং করলেন।
হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েই বাজেটে বাংলাদেশের ডানা ছাঁটল মোদী সরকার
থারুর বলেছেন, “বাজেট ভাষণে খুব কম বিস্তারিত তথ্য ছিল। মাত্র ৩-৪ টি হেডলাইন শোনা গেল। আমরা অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কেরলে এটা হলে ভালো হতো। কেরলের আয়ুর্বেদের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু কেরলের নাম একবারও শোনা যায়নি। মাছ ধরা আর নারকেলের কথা শোনা গেল যা কেরলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
কিন্তু যখন শিপ রিপেয়ারের কথা বলা হল, তখন বারাণসী আর পাটনার নাম নেওয়া হল, কেরলের নাম নয়। এটা একটু আশ্চর্যজনক। তবে হয়তো বাজেটের পুরো নথিতে আরও বিস্তারিত তথ্য আছে। আমি এখনও পুরোটা পড়িনি। ভাষণে খুব কম বিশদ ছিল।” থারুরের এই মন্তব্য শুনে কংগ্রেসের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বের কয়েকজন নেতা গোপনে কটাক্ষ করেছেন যে, “থারুর মোদী-প্রেমী হয়ে গেছেন। তাই সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘সেফ ব্যাটিং’ করলেন।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ না করে হালকা করে বলে দিলেন।” কেউ কেউ বলছেন, থারুরের এই নরম সুর কেরলের আয়ুর্বেদিক ঐতিহ্যের প্রতি অবিচার। রাজ্যের অনেক আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানও হতাশ। তাঁরা বলছেন, কেরলে আয়ুর্বেদের জন্য জাতীয় স্তরের ইনস্টিটিউট বা বিশেষ বরাদ্দ থাকলে রাজ্যের পর্যটন ও চিকিৎসা খাত আরও শক্তিশালী হতো।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা থারুরের মন্তব্যকে ‘সৌজন্যমূলক’ বলে প্রশংসা করছেন। তাঁরা বলছেন, বাজেটে আয়ুর্বেদের জন্য সামগ্রিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং কেরলের আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে তার সুবিধা পাবে। কোনো রাজ্য-নির্দিষ্ট ঘোষণা না থাকলেও, আয়ুর্বেদের প্রসারে কেন্দ্রীয় স্কিমগুলো সব রাজ্যের জন্য উন্মুক্ত। থারুরের কথায় তাঁরা দেখছেন যে তিনি ‘রাজনৈতিক সৌজন্য’ বজায় রেখেছেন।




















