বিধানসভা নির্বাচনের দিন যত এগোচ্ছে, ততই রাজ্য রাজনীতিতে জোরদার হচ্ছে জল্পনা। কে কার হাত ধরবে, কোন জোট কোন পথে হাঁটবে? প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। ঠিক এমন আবহেই বুধবার রাতে নিউটাউনের এক হোটেলে সিপিএমের (CPIM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা তথা সদ্য ঘোষিত জনতা উন্নয়ন পার্টির সভাপতি হুমায়ূন কবিরের সাক্ষাৎ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই সাক্ষাতের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি নতুন কোনও জোটের পথে হাঁটছে সিপিএম? ২০২১ সালে আইএসএফের সঙ্গে জোট করেছিল বামফ্রন্ট। এবার কি সেই জায়গায় হুমায়ূন কবিরের জনতা উন্নয়ন পার্টি?
যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করতে রাজি নন মহম্মদ সেলিম। বরং বিষয়টিকে হালকা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “কথা বলা মানেই সব কিছু চূড়ান্ত নয়। বিয়েতে অনেকেই দেখা করে, সেলফি তোলে। তাতে কি প্রেম বা বিয়ে হয়ে যায়? রাজনৈতিক সমঝোতা, সিট ভাগাভাগি সব আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই ঠিক হয়।”
তবে হুমায়ূন কবিরের বক্তব্যে জোটের সম্ভাবনার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তিনি বলেন, “বিজেপি ও তৃণমূলকে বাদ দিয়ে যারা এক হতে চায়, তাদের সঙ্গেই আমরা জোট করতে আগ্রহী। তৃণমূলকে সরানো ও বিজেপিকে থামানোই আমাদের লক্ষ্য।”
এই সাক্ষাৎ ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরেও তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ওরা যদি অন্য কারও সঙ্গে হাত মেলায়, আমি কী করব? সেলিম কী করবেন? কেউ কিছু জানায়নি।”
অন্যদিকে, সেলিম-হুমায়ূন সাক্ষাৎকে হাতিয়ার করে আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল ও বিজেপি দু’পক্ষই। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “যে হোটেলে বিজেপি নেতারা ওঠেন, খাওয়া-দাওয়া করেন, সেখানেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক গিয়ে দেখা করছেন হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে। রাজনৈতিকভাবে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”
বিজেপিও সুযোগ ছাড়েনি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বালুঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা দেখছি। দু’জনেই মোঘল সাম্রাজ্যের অংশ ছিলেন। এখন দেখা যাক, কোন মোঘল কার হাত ধরে।”
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনীতি যে আরও উত্তাল হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। সেলিম-হুমায়ূন সাক্ষাৎ আদৌ জোটে গড়ায় কি না, নাকি শুধুই রাজনৈতিক সৌজন্য—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।




















