গ্রুপ শীর্ষে থেকেই সন্তোষ ট্রফির (Santosh Trophy) মূলপর্ব শেষ করল বাংলা। পাঁচ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট। সংখ্যার হিসেবে সাফল্য নিঃসন্দেহে। কিন্তু বৃহস্পতিবার অসমের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচটা যেন একাধিক প্রশ্ন তুলে দিল বাংলার পারফরম্যান্স নিয়ে। বিশেষ করে রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের সমন্বয় নিয়ে নকআউট পর্বের আগে চিন্তা বাড়ছে কোচ সঞ্জয় সেনের।
টানা তিন ম্যাচে জয়ের পর চতুর্থ ম্যাচে তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে ড্র। সেই ধারা ভাঙার লক্ষ্যেই এদিন মাঠে নেমেছিল বাংলা। শুরুটা আশাব্যঞ্জকই ছিল। ম্যাচের ৩২ মিনিটে আকাশ হেমব্রমের গোলে এগিয়ে যায় বঙ্গ ব্রিগেড। প্রথমার্ধে বলের দখল এবং আক্রমণের ঝাঁজে কিছুটা এগিয়ে ছিল বাংলা। তবে ব্যবধান বাড়াতে না পারার খেসারত যে দিতে হতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলছিল তখনই।
দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট বদলায়। মাঝমাঠে চাপ বাড়ায় অসম, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলার রক্ষণে। একের পর এক আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে যান ডিফেন্ডাররা। ৫১ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট না হলে তখনই সমতায় ফিরতে পারত অসম। গোলকিপারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ বাংলাকে তখন রক্ষা করে।
তবে শেষরক্ষা আর হয়নি। ম্যাচের ৮২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ঋতুরাজ গোল করে অসমকে সমতায় ফেরান। সেই গোলের পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সময় বা ছন্দ, কোনোটাই খুঁজে পায়নি বাংলা। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ড্রয়ে।
গ্রুপ শীর্ষে শেষ করলেও এই ম্যাচে বাংলার ডিফেন্স যে বেশ ভুগিয়েছে, তা স্পষ্ট। মাঝমাঠে রবি হাঁসদা ও উত্তম হাঁসদাদের না রাখার সিদ্ধান্তে ভারসাম্যের অভাব চোখে পড়েছে। সেই ফাঁক গলেই বারবার আক্রমণে উঠেছে প্রতিপক্ষ।
কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই ড্র যেন এক ধরনের সতর্কবার্তা। শুধুমাত্র পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা নয়, নকআউটে টিকে থাকতে হলে রক্ষণভাগের দৃঢ়তা আর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ—দুটোতেই দ্রুত মেরামতির প্রয়োজন সঞ্জয় সেনের দলের। পরিসংখ্যান স্বস্তি দিলেও পারফরম্যান্সের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণই এখন বাংলার আসল চ্যালেঞ্জ। নকআউটে সেই পরীক্ষাতেই নামবে বঙ্গ ব্রিগেড।




















