অশান্তিতে সেভেন সিস্টার্স! রাজ্য ছাড়ার হুমকি দিয়ে পড়ল ISIS পোস্টার

মেঘালয়ের পশ্চিম গারো হিলসে ছড়াল উত্তেজনা। অভিযোগ রাতের অন্ধকারে কেউ পোস্টার (ISIS posters)লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। তাও আবার সেই পোস্টার ISIS এর। রাতের অন্ধকারে লাগানো আইএসআইএস…

মেঘালয়ের পশ্চিম গারো হিলসে ছড়াল উত্তেজনা। অভিযোগ রাতের অন্ধকারে কেউ পোস্টার (ISIS posters)লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। তাও আবার সেই পোস্টার ISIS এর। রাতের অন্ধকারে লাগানো আইএসআইএস র এই পোস্টারে স্থানীয় গারো সম্প্রদায়কে ২০২৭ সালের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় গারো জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

Advertisements

এই ঘটনা রাজ্যের শান্তিপূর্ণ সম্প্রীতিতে নতুন ফাটল ধরানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।গত ২৯ জানুয়ারি সকালে তুরা শহরের আরাইমাইলে ল কলেজের কাছে একটি বিদ্যুতের খুঁটিতে একটি পোস্টার পাওয়া যায়। ইংরেজিতে লেখা এই পোস্টারে ‘ওয়ার্নিং টু গারোস’ শিরোনামে বলা হয়েছে যে, পশ্চিম গারো হিলসের ফুলবাড়ি, রাজাবালা, টিকরিকিল্লা, সেলসেলা, গারোবাধা এবং তুরা এলাকায় বসবাসকারী গারো সম্প্রদায়ের লোকেদের ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের জমি-জায়গা ছেড়ে চলে যেতে হবে।

অসমে অনুপ্রবেশ, নীরব সরকার, তোপ অমিত শাহের

না হলে “গুরুতর পরিণতি” ভোগ করতে হবে। পোস্টারটি ‘প্লেইন বেল্ট এরিয়া কমিটি, আইএসআইএস-কে’ নামে প্রকাশিত বলে দাবি করা হয়েছে এবং এতে ‘আমিনুর ইসলাম’ নামে একজনের সই রয়েছে, যাকে ‘প্লেইন বেল্ট এরিয়া কমান্ডার’ বলা হয়েছে। পোস্টারে আইএসআইএস-এর প্রতীকও ছিল, যা দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পুলিশ দ্রুত পোস্টারটি সরিয়ে ফেলে এবং আরাইমাইল থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে।

পশ্চিম গারো হিলসের এসপি আব্রাহাম টি. সাংমা বলেন, “এটি একটি উস্কানিমূলক পোস্টার। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে চাইছে।” পোস্টারটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কিছু লিড পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, তবে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এলাকায় সিসিটিভি না থাকা এবং আলো কম থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়েছে। আবার অনেকেই এই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করেছেন। কারণ সম্প্রতি বাংলাদেশে সেভেন সিস্টার্স নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সেভেন সিস্টার্স দখলের হুমকিও দিয়েছে জামাত সহ অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলি।

এই ঘটনা গারো সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সম্প্রতি গারো যুব নেতা দিলসেং এম. সাংমার মৃত্যুর ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছিলই, এই পোস্টার সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট গ্রেনেথ সাংমা মেঘালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, “এটি ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে সুরক্ষিত গারোদের ভূমির উপর আক্রমণ।

তিনি আরও বলেছেন প্লেইন বেল্ট এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো দরকার।”রাজনৈতিক মহলও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী মারকুইস মারাক এই হুমকিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন, এটা সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা। উপ-মুখ্যমন্ত্রী প্রেস্টোন টিনসং বলেছেন, “সরকার এটাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তদন্ত চলছে, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও জড়ানো হবে। মেঘালয়ে এমন ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।” বিজেপি নেতা এ.এল. হেক বলেছেন, “গারোরা মেঘালয়ের আদিবাসী, তাদের নিজের মাতৃভূমি ছাড়তে বলা অসম্ভব। পুরোপুরি তদন্ত হওয়া দরকার।”