‘বাংলায় আর বনধ হতে দেব না! নবান্ন থেকে শিল্পপতিদের কড়া বার্তা মমতার

কলকাতা: রাজ্যে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কর্মদিবস নষ্ট রুখতে আবারও কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নের সভাঘর থেকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, “আমি বনধের ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
bandh policy in West Bengal

কলকাতা: রাজ্যে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কর্মদিবস নষ্ট রুখতে আবারও কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নের সভাঘর থেকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, “আমি বনধের বিরোধী। বাংলায় আর বনধ হতে দেব না।” মঙ্গলবার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান ছিল৷ ওই অনুষ্ঠান থেকে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি একগুচ্ছ সতর্কবার্তাও দেন।

শিল্পের স্বার্থে সামাজিক সংহতির পাঠ

মুখ্যমন্ত্রী এদিন শিল্পপতিদের উদ্দেশে বলেন, রাজ্যে ৩০ শতাংশের একটি বিশেষ গোষ্ঠী রয়েছে। তাঁদের দাবিদাওয়ার প্রতি সংবেদনশীল থাকা প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “৬ শতাংশ এসটি (ST) এবং ২৬ শতাংশ এসসি (SC)- এই ট্রাইবালদের ওপর কিছু হলে রাস্তা ও রেল অবরোধ হয়ে যায়। ঝগড়া হলে কোম্পানি বন্ধ হবে, তখন আমাদের বাঁচা মুশকিল হয়ে যাবে।” তাই শিল্পক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখতে জাতিগত বিভেদ বা একে অপরের বিষয়ে নাক না গলানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

   

বনধের রাজনীতি ও উন্নয়নের করিডর bandh policy in West Bengal

বাম আমলের কথা টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাম আমলে ৭৫ লক্ষ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে একদিনও কামাই হতে দেয়নি।” তিনি দাবি করেন, পরিকাঠামো উন্নয়নের জোরে পুরুলিয়ার মতো জেলাতেও আমূল বদল এসেছে। রাজ্যে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে ছয়টি বাণিজ্যিক করিডর তৈরির কাজ চলছে। যাঁরা বলেন ‘বাংলা থেকে শিল্প চলে যাচ্ছে’, তাঁদের ভুল প্রমাণ করতে হাওড়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রাস্তার ধারের উন্নয়ন স্বচক্ষে দেখার আহ্বানও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

শ্মশান ও মন্দিরের উন্নয়ন

এদিন ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সিরিটি মহাশ্মশানের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির (২৪টি শিবলিঙ্গ ও বিশাল শিবমূর্তিসহ) এবং পুরীর আদলে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের কাজের অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি জানান, মন্দির হোক বা মসজিদ, যেখানেই উন্নয়নের অনুরোধ এসেছে, রাজ্য সরকার সেখানে কাজ করেছে।

শিল্পপতিদের জন্য খোলা জানলা

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, “ব্যবসা বাড়াতে হলে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। কোনও সমস্যা হলে মুখ্যসচিব, শিল্পসচিব বা হিডকো (HIDCO) আছে। আমি নিজেও আছি।” তিনি আরও জানান, দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হলে প্রশাসন কঠোর হাতে তা দমন করবে। ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাই সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা বলে দাবি করেন তিনি।

 

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google