পানাজি: ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক সমঝোতা হিসেবে বর্ণনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার গোয়ায় ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে ভার্চুয়ালি ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এমনই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের কোটি কোটি মানুষের জন্য অভূতপূর্ব সুযোগ নিয়ে আসবে।
ভারত-ইইউ চুক্তি: বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন মোড়
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঠিক গতকালই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি বড় মাপের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ একে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে অভিহিত করছেন।” তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলির কয়েক কোটি মানুষের জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি করবে। এটি বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে সমন্বয়ের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এই চুক্তির আওতায় বিশ্ব জিডিপি-র (GDP) প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মোদী স্পষ্ট জানান, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের প্রতি দুই পক্ষের যৌথ অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
এনার্জি উইক ২০২৬: জ্বালানি সুরক্ষায় ভারতের নেতৃত্ব India-EU Trade Agreement
গোয়ার ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক’-এ প্রায় ১৫০টি দেশের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি শক্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনারা সবাই ভারতে এসেছেন জ্বালানি নিরাপত্তা এবং একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে। আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই।”
উল্লেখ্য, ভারত বর্তমানে তেল শোধনাগারের ক্ষমতায় বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানের ২৬০ MMTPA ক্ষমতা থেকে বাড়িয়ে খুব শীঘ্রই এটি ৩০০ MMTPA করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং ভারত এই ক্ষেত্রে বিশ্বের ১ নম্বর দেশ হওয়ার পথে এগোচ্ছে।
এছাড়াও, ভারত বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারক দেশের অন্যতম। ১৫০টিরও বেশি দেশে ভারত পণ্য রফতানি করে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের জ্বালানি সংস্থাগুলিকে ভারতের এই ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অংশীদারিত্বের নতুন পথ খোঁজার আহ্বান জানান।
গুরুত্ব বাড়ছে ভারতের
ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৬-এর মূল লক্ষ্যই হলো জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ব্যবহারিক পথ খুঁজে বের করা। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘মাদার অফ অল ডিলস’-এর ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকেই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।



