কলকাতা: হোয়াটসঅ্যাপের ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ কি শুধুই আইওয়াশ? জনপ্রিয় এই মেসেজিং অ্যাপের সুরক্ষা কবচ নিয়ে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠল। হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটা-র (Meta) বিরুদ্ধে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন একদল আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারী। তাঁদের দাবি, এনক্রিপশন থাকলেও ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মেসেজ দেখার সুযোগ রয়েছে মেটা কর্মীদের কাছে।
আদালতে কী অভিযোগ উঠল?
ব্লুমবার্গ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মেক্সিকোর একদল ব্যবহারকারী গত ২৩ জানুয়ারি এই মামলা দায়ের করেছেন। ৫১ পাতার ওই পিটিশনে দাবি করা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের এনক্রিপশন আদতে একটি ‘ধাপ্পাবাজি’। মেটা-র ইঞ্জিনিয়াররা বিশেষ ‘উইজেট’-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ইউনিক আইডি ব্যবহার করে তাঁদের মেসেজ দেখতে পারেন। ডিলিট করে দেওয়া মেসেজও নাকি রিয়েল-টাইমে দেখতে পান সংস্থার কর্মীরা।
একজন ইঞ্জিনিয়ারকে শুধু একটি ‘টাস্ক’ রিকোয়েস্ট পাঠাতে হয়, যার মাধ্যমে কোনো কড়া নজরদারি ছাড়াই মেসেজ দেখার অনুমতি মিলে যায়। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে কোনও প্রযুক্তিগত প্রমাণ এখনও আদালতে পেশ করা হয়নি। অন্যদিকে, মেটা এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন এবং হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থার দাবি, এনক্রিপশন কি (Encryption Key) শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই থাকে, ফলে কোম্পানির পক্ষে মেসেজ পড়া সম্ভব নয়।
মুখ খুললেন এলন মাস্ক
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন টেক জায়ান্ট এলন মাস্ক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “হোয়াটসঅ্যাপ মোটেই নিরাপদ নয়।” এমনকি সিগন্যাল (Signal) অ্যাপের নিরাপত্তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিকল্প হিসেবে তিনি নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘X Chat’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বর মাসেই মাস্কের xAI নিয়ে এসেছে ‘X Chat’, যা গোপনীয়তার দিক থেকে হোয়াটসঅ্যাপের থেকেও উন্নত বলে দাবি করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপের মতো বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এখন দেখার, আদালতের লড়াইয়ে মেটা নিজেদের কতটা স্বচ্ছ প্রমাণ করতে পারে।




















