নাশকতার ছক বানচাল! রিপাবলিক ডে-র প্রাক্কালে রাজস্থানের (Nagaur)নাগৌর জেলায় পুলিশের বড়সড় সাফল্য প্রায় ১০,০০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার এবং এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কর্তৃপক্ষ এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্টের অধীনে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযানগুলির একটি বলে বর্ণনা করেছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম সুলেমান খান, বয়স প্রায় ৫৮ বছর, নাগৌরের হারসৌর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিপাবলিক ডে-র আগের দিনগুলিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নাগৌর পুলিশের ডিএসটি (ডিস্ট্রিক্ট স্পেশাল টিম) টিম অভিযান চালায়। সুলেমান খানের খামারবাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তারা ৯,৫৫০ কেজি (প্রায় ১০ টন) অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করে। এই বিস্ফোরক ১৮৭টি কার্টনে ভর্তি অবস্থায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
প্রজাতন্ত্রের দিনেই ভারতকে শায়েস্তা করতে বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার এল পাকিস্তানে
শুধু অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটই নয়, পুলিশ আরও উদ্ধার করেছে ডেটোনেটর, ডেটোনেটিং ওয়্যার, ফিউজ তার এবং খনিতে ব্যবহৃত অন্যান্য ব্লাস্টিং সামগ্রী। এসব উপকরণ একত্রিত করলে যেকোনো বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো সম্ভব, যা নিরাপত্তা আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছে।সুলেমান খানকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে তিনটি ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নাগৌরের এসপি জানান, এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, কোথায় ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল এবং এর পিছনে অন্য কোনও চক্র জড়িত কি না এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি, যেমন এনআইএ বা অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা, এই মামলায় যুক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট অত্যন্ত সংবেদনশীল বিস্ফোরক, যা অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী হামলায় ব্যবহার হয়েছে।
এই উদ্ধার অভিযানকে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিপাবলিক ডে-র মতো জাতীয় উৎসবের আগে এমন একটি বড় চক্র ধরা পড়ায় সম্ভাব্য নাশকতার ছক ভেস্তে গেছে। পুলিশের দাবি, এই পরিমাণ বিস্ফোরক দিয়ে একাধিক বড় হামলা চালানো যেত। খনি বা শিল্পকাজে বৈধভাবে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার হয় ঠিকই, কিন্তু এত বিপুল পরিমাণ লুকিয়ে রাখা এবং ডেটোনেটর-ফিউজের মতো উপকরণ থাকায় স্পষ্টতই এর উদ্দেশ্য অবৈধ ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকে বলছেন, গ্রামের খামারবাড়িতে এত বিপজ্জনক জিনিস লুকিয়ে থাকা জেনে তারা অবাক। পুলিশ এখন সুলেমান খানকে জেরা করে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা করছে। তার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, কীভাবে এত বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।




















