স্কুলে ভরতি থেকে চাকরি, বার্থ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করল NDA সরকার

নাগাল্যান্ডে এবার নাগরিক পরিচয় ও সরকারি পরিষেবা ব্যবস্থায় এক (Nagaland)ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। নাগাল্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস (সংশোধনী) রুলস, ২০২৪ কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে জন্ম ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
birth-certificate-mandatory-nagaland-rules

নাগাল্যান্ডে এবার নাগরিক পরিচয় ও সরকারি পরিষেবা ব্যবস্থায় এক (Nagaland)ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। নাগাল্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস (সংশোধনী) রুলস, ২০২৪ কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে জন্ম শংসাপত্রকে একমাত্র বাধ্যতামূলক নথি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। স্কুলে ভর্তি, সরকারি চাকরি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার নথিভুক্তিকরণ থেকে শুরু করে বিবাহ নিবন্ধন সব ক্ষেত্রেই এখন আর কোনও বিকল্প নথি গ্রহণ করা হবে না।

মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান, মূল্যায়ন এবং আইটি অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের উপদেষ্টা এস সেথ্রনক্যু সাংতম। তাঁর মতে, এই সংশোধিত নিয়মের মূল লক্ষ্য হল নাগরিক নথিভুক্তিকরণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, একরূপ ও আইনি ভাবে নির্ভরযোগ্য করা।

   

কাঠুয়ায় এনকাউন্টার, খতম পাকিস্তানি জৈশ জঙ্গি ধুলিস্মাৎ সন্ত্রাসবাদী ডেরা

সাংতম বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ কোনও আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব। এর মাধ্যমে শুধু নাগরিকের আইনি পরিচয়ই নিশ্চিত হয় না, বরং কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নেও বড় ভূমিকা রাখে।

তিনি জানান, জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু কিংবা বিবাহ বিচ্ছেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনঘটনা নথিভুক্ত করা একটি নিরবচ্ছিন্ন, স্থায়ী ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। এই ব্যবস্থার আইনি ভিত্তি হল রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস অ্যাক্ট, ১৯৬৯, যা সংসদে ২০২৩ সালে সংশোধিত হয় এবং ১ অক্টোবর ২০২৩ থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। সেই কেন্দ্রীয় সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নাগাল্যান্ড বিধানসভা ২০২৪ সালে রাজ্য সংশোধনী পাশ করে, যা ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৩-এর আগে বা পরে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষেত্রেই জন্ম শংসাপত্রই হবে জন্মের তারিখ ও স্থানের একমাত্র প্রমাণ। এতদিন পর্যন্ত স্কুল সার্টিফিকেট বা অন্যান্য নথির উপর যে নির্ভরতা ছিল, তার অবসান ঘটছে। সাংতম স্পষ্ট করে জানান, “এখন থেকে অন্য কোনও নথি বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। তাই নাগরিকদের সময়মতো জন্ম নথিভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।”

নাগরিকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে নাগাল্যান্ড সরকার রাজ্যজুড়ে ১,৪৭৪টি রেজিস্ট্রেশন সেন্টার চালু করেছে। গ্রামাঞ্চলে: প্রতিটি স্বীকৃত গ্রামে একটি করে রেজিস্ট্রেশন ইউনিট রয়েছে, যেখানে সরকারি শিক্ষকরা রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে: কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও প্রাইমারি হেলথ সেন্টারগুলিকেও রেজিস্ট্রেশন ইউনিট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, নার্স-ইন-চার্জ থাকবেন রেজিস্ট্রার।

শহরাঞ্চলে: অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান দফতর, জেলা অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান আধিকারিকের দপ্তর এবং সমস্ত জেলা হাসপাতালে রেজিস্ট্রেশন পরিষেবা মিলবে। নতুন নিয়মে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারও আনা হয়েছে। আগে জন্মের ৩০ দিনের পর কিন্তু এক বছরের মধ্যে নথিভুক্ত করতে গেলে নোটারাইজড হলফনামা লাগত। এখন সেই বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে।

৩০ দিন–১ বছরের মধ্যে: স্ব-প্রত্যয়িত নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনই যথেষ্ট। ১ বছরের বেশি দেরি হলে: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অনুমোদিত সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট অনুমতি দেবেন। এছাড়াও, জন্ম শংসাপত্রে শিশুর নামে কোনও সংক্ষিপ্ত রূপ (abbreviation) ব্যবহার করা যাবে না, যাতে আইনি স্পষ্টতা ও মান বজায় থাকে।

নাগাল্যান্ড সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সংস্কারের পথে এক বড় পদক্ষেপ। নাগরিক পরিচয় থেকে শুরু করে শিক্ষা, চাকরি ও কল্যাণমূলক পরিষেবা সবকিছুর ভিত্তি হিসেবে জন্ম শংসাপত্রকে একমাত্র নথি করার ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে, জাল নথির ব্যবহার কমবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে। তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সময়মতো নথিভুক্তিকরণই এই ব্যবস্থার সাফল্যের চাবিকাঠি।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google