সাবরিমালা সোনার কাণ্ডে তিন রাজ্যে ইডির অভিযান

দিল্লি: কেরলের ঐতিহ্যবাহী ও পবিত্র তীর্থক্ষেত্র সাবরিমালা শ্রী আয়াপ্পা মন্দির থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা (Sabarimala gold investigation) গায়েব হওয়ার অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ...

By Sandipa Sil

Published:

Follow Us

দিল্লি: কেরলের ঐতিহ্যবাহী ও পবিত্র তীর্থক্ষেত্র সাবরিমালা শ্রী আয়াপ্পা মন্দির থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা (Sabarimala gold investigation) গায়েব হওয়ার অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এবার তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় কেরল, কর্নাটক ও তামিলনাড়ু—এই তিন রাজ্যে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ২১টি জায়গায় একসঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানের আওতায় রয়েছে বেঙ্গালুরুতে মূল অভিযুক্ত উন্নিকৃষ্ণন পট্টির একাধিক বাড়ি ও অফিস, কেরলে প্রাক্তন ট্রাভাঙ্কোর দেবস্বম বোর্ডের সভাপতি এ পদ্মকুমারের বাসভবন ও সংশ্লিষ্ট অফিস, পাশাপাশি একাধিক গয়নার দোকান, সোনা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

   

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, গত ৯ জানুয়ারি কেরল পুলিশের দায়ের করা একাধিক FIR-এর ভিত্তিতে এই মামলায় মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। ইতিমধ্যেই এই সংবেদনশীল মামলাটি কেরল হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) খতিয়ে দেখছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, সাবরিমালা মন্দিরের বিভিন্ন পবিত্র অলংকার ও ধর্মীয় নিদর্শন থেকে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে সোনা সরানো হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দিরের দ্বারপালক দেবমূর্তির সোনায় মোড়া তামার ফলক এবং গর্ভগৃহের (শ্রীকোভিল) দরজার ফ্রেম থেকে বেআইনিভাবে সোনা খুলে নেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ হল, সরকারি নথিতে ইচ্ছাকৃতভাবে এই সোনায় মোড়া নিদর্শনগুলিকে শুধুমাত্র “তামার ফলক” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে সেগুলি মন্দির চত্বর থেকে সরিয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ।

ইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই সোনা চেন্নাই ও কর্নাটকের একাধিক বেসরকারি কারখানায় রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আলাদা করা হয়। পরে সেই সোনা বাজারে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা হয়। ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঘুরিয়ে গোপন করা হয় এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সাদা করা হয় বলে অভিযোগ।

ইডি আধিকারিকদের মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক দুর্নীতি, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা এবং সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট প্রমাণ মিলছে।

কেরল, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর মোট ২১টি জায়গায় একযোগে অভিযান চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বেঙ্গালুরুতে উন্নিকৃষ্ণন পট্টির একাধিক ঠিকানা, কেরলে প্রাক্তন দেবস্বম বোর্ড সভাপতির বাসভবন, একাধিক গয়নার দোকান ও সোনা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অফিস ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের কার্যালয়৷

ইডি আধিকারিকদের বক্তব্য, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল বেআইনি অর্থের উৎস চিহ্নিত করা, উপভোক্তাদের শনাক্ত করা, ডিজিটাল নথি ও আর্থিক কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা এবং মানি লন্ডারিংয়ের পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা।

ইডির তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সাবরিমালায় মন্দিরের দান, পূজা সংক্রান্ত অর্থ ও ধর্মীয় আচার সংক্রান্ত তহবিল নিয়েও ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এই সমস্ত লেনদেনের দিকেও এখন নজর দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

ধর্মীয় আবেগে জড়িত এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবির একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। সব মিলিয়ে সাবরিমালার মতো পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে এই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sandipa Sil

আইনের ছাত্রী। শিক্ষানবীশ আইনজীবী। সাংবাদিকের সঙ্গে সংসারের সূত্রে সংবাদে আগ্রহ। কলকাতা24x7-এর মাধ্যমে পথ চলার শুরু।

Follow on Google