SIR হিয়ারিংয়ে বড় স্বস্তি! মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে সুপ্রিম মান্যতা

কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বড় স্বস্তি পেলেন রাজ্যের সাধারণ ভোটাররা। সোমবার এক ঐতিহাসিক নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিল, ভোটার…

Supreme Court Silent on SIR Case Petition, Application Rejected

কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বড় স্বস্তি পেলেন রাজ্যের সাধারণ ভোটাররা। সোমবার এক ঐতিহাসিক নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিল, ভোটার তালিকায় নাম যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের (দশম শ্রেণি) অ্যাডমিট কার্ডকে ‘বৈধ নথি’ হিসেবে গ্রহণ করতেই হবে। এর আগে নির্বাচন কমিশন এই নথি গ্রহণে সাফ না করে দিয়েছিল, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিভ্রান্তি ও হয়রানি তৈরি হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রায়

এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। কমিশন যুক্তি দিয়েছিল যে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড তাদের নির্ধারিত ১৩টি নথির তালিকায় নেই। কিন্তু তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ডে জন্মতারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে, যা অনেক শংসাপত্রেই থাকে না।

Advertisements

আদালত এই যুক্তিতে সায় দিয়ে জানায়, যেহেতু অ্যাডমিট কার্ডে জন্মতারিখের প্রমাণ রয়েছে, তাই এটি ভোটারদের সত্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচারপতিদের মতে, সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা যাবে না। বিশেষ করে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁদের কাছে এই অ্যাডমিট কার্ডই ছিল বড় সম্বল।

বিএলএ (BLA) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত madhyamik admit card valid for sir

শুধু নথি নয়, শুনানি কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-দের প্রবেশ নিয়েও বড় নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কমিশন বিএলএ-দের উপস্থিতিতে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল এতে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিল, কোনো ভোটার যদি তাঁর সহায়তার জন্য কোনো প্রতিনিধি, আত্মীয় কিংবা বিএলএ-কে সঙ্গে নিয়ে যেতে চান, তবে তাতে বাধা দেওয়া যাবে না। তবে সেক্ষেত্রে ভোটারকে একটি ‘অথরাইজেশন লেটার’ বা অনুমতিপত্র দিতে হবে।

বিপাকে পড়া ভোটারদের স্বস্তি

বর্তমানে রাজ্যে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে লাখ লাখ ভোটারকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হচ্ছে। অনেক সাধারণ মানুষের কাছেই পর্যাপ্ত নথি নেই। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল হওয়ায় বহু পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিপদে পড়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে এখন থেকে বিএলএ-র সাহায্য নিয়ে এবং নিজের অ্যাডমিট কার্ড দেখিয়ে তালিকায় নাম রক্ষা করতে পারবেন পশ্চিমবঙ্গের কয়েক লক্ষ ভোটার।