করাচির শপিং মলে ভয়াবহ আগুন, মৃত ১০, নিখোঁজ ৬০

করাচির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা এম এ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Karachi Gul Plaza fire) শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার গভীর…

করাচির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা এম এ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Karachi Gul Plaza fire) শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার গভীর রাতে উদ্ধারকারী দল আরও চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও প্রায় ৫৮ থেকে ৬০ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাঁদের অনেকেই ভবনের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জিও নিউজ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার অভিযানের সময় তিনজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। মৃতদেহগুলি করাচির সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। ভয়াবহ আগুনে শপিং মলের একাধিক তলা সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং ভবনের কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনাস্থলে বর্তমানে ২২টি ফায়ার ব্রিগেড ইঞ্জিন, ১০টি জলবাহী ট্যাঙ্কার, চারটি স্নরকেল গাড়ি এবং ৩৩টি অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন রয়েছে। উদ্ধারকারী দল থার্মাল ক্যামেরার সাহায্যে ভবনের ভিতরে আটকে থাকা মানুষদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

রেসকিউ কর্মী হাসান আহমেদ জানান, এখনও পর্যন্ত ভবনের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ অংশে প্রবেশ করা সম্ভব হয়েছে। জানালা কেটে ও দেয়াল ভেঙে ভিতরে ঢোকার রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। তবে আগুনে দুর্বল হয়ে পড়া কাঠামোর কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং আগুন সম্পূর্ণ নেভানোর কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। উদ্ধারকারী দল এখনও ভবনের প্রথম তলায় পৌঁছতে পারেনি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

নিখোঁজদের পরিবারের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেছে পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, অন্তত ২০ জনের মোবাইল লোকেশন ভবনের ভিতরে শনাক্ত করা হয়েছে, যা উদ্ধার অভিযানে বড় সাহায্য করছে।

রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ। তিনি বলেন, “প্রায় ৬০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে স্বচ্ছভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট ও ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন (FWO) ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবনের স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করে উদ্ধারকারীদের নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে উদ্ধারকাজ চলছে।

করাচির ইতিহাসে এই অগ্নিকাণ্ডকে অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গোটা শপিং মল গ্রাস করে নেয় এবং বহু মানুষ ভিতরে আটকে পড়েন। এই ঘটনার পর করাচির শপিং মল ও বহুতল ভবনগুলির অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।