ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচে শুরুতেই উত্তেজনা, সূর্যকে অনুসরণ আয়ুষের!

মাঠের বাইরের রাজনৈতিক উত্তাপ এবার বাইশ গজেও স্পষ্ট ছাপ ফেলছে। তারই আরেকটি উদাহরণ দেখা গেল অনূর্ধ্ব-১৯ একদিনের বিশ্বকাপে (India vs Bangladesh)। ভারত ও বাংলাদেশের যুব দলের ম্যাচ শুরুর ...

By Subhasish Ghosh

Published:

Follow Us
india-vs-bangladesh-u19-cricket-world-cup-toss-controversy

মাঠের বাইরের রাজনৈতিক উত্তাপ এবার বাইশ গজেও স্পষ্ট ছাপ ফেলছে। তারই আরেকটি উদাহরণ দেখা গেল অনূর্ধ্ব-১৯ একদিনের বিশ্বকাপে (India vs Bangladesh)। ভারত ও বাংলাদেশের যুব দলের ম্যাচ শুরুর আগেই টসের সময় করমর্দন না হওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নতুন করে আলোচনায় এনেছে দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অবনতি।

ইন্দোরের লড়াইয়ের আগে ‘আধ্যাত্মিক’ বিরাট! সঙ্গী তারকা স্পিনার

   

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে গ্রুপ ‘বি’র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও বাংলাদেশ। ম্যাচ শুরুর আগে টস করতে আসেন ভারতের অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে এবং বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম প্রস্তুত না থাকায় টসের দায়িত্ব দেওয়া হয় আবরারকে। ম্যাচ রেফারি ডিন কস্কারের তত্ত্বাবধানে কয়েন ছোড়া হয়, টস জিতে নেয় বাংলাদেশ। তবে টস শেষে সৌজন্য রক্ষার অংশ হিসেবে যে করমর্দনের রীতি বহুদিন ধরে ক্রিকেট মাঠে চলে আসছে, সেটিই এদিন আর দেখা যায়নি। আয়ুষ মাত্রে করমর্দন না করেই সরে যান, আর আবরারও হাত বাড়াননি।

এই ঘটনাকে ঘিরে মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। অনেকেই একে সাম্প্রতিক ভারত-পাক ক্রিকেটে করমর্দন এড়িয়ে চলার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করছেন। এর আগে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ভারতীয় অধিনায়ক করমর্দন না করায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হয়েছিল। পরে অনূর্ধ্ব-১৯ ও নারী ক্রিকেটেও একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবও এই ঘটনার পেছনে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও হিন্দুহত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে প্রতিবাদ। আইপিএলে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে না নেওয়া এবং আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে আয়োজন হলেও সেখানে দল পাঠানো নিয়ে বাংলাদেশের অনীহা। সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে বেশ সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে।

ক্রিকেট মাঠে এই উত্তাপের প্রভাব পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেক সাবেক ক্রিকেটার ও পর্যবেক্ষক। তাঁদের মতে, ক্রিকেট বরাবরই কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক মতবিরোধ যদি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও এমন আচরণে রূপ নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে ক্রীড়াসৌজন্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

যুব বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে যেখানে মূল ফোকাস থাকার কথা প্রতিভা বিকাশ ও খেলাধুলার আনন্দে, সেখানে টসের সময় করমর্দন না হওয়াই ম্যাচের শুরুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, এই ঘটনা যে ভারত–বাংলাদেশ ক্রিকেটীয় সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Subhasish Ghosh

[email protected]

Follow on Google