হায়দরাবাদের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED arrest) জোনাল অফিস একটি গুরুতর ঘটনায় একজন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে। ১০ জানুয়ারি ২০২৬-এ কল্যাণ ব্যানার্জি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি ইডি-র কাজে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছিলেন।প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ), ২০০২-এর অধীনে চলমান তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একটি মামলায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইডি। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত নওহেরা শেখ (হীরা গোল্ডের এমডি) এবং অন্যান্যরা।
নওহেরা শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে প্রায় ৫,৯৭৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন বেশি রিটার্নের লোভ দেখিয়ে।ইডি-র তদন্তে জানা যায়, নওহেরা শেখ এবং তার সহযোগীরা প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের (প্রসিডস অফ ক্রাইম) অংশ দিয়ে বিভিন্ন অচল সম্পত্তি কিনেছেন। ইডি এই সম্পত্তিগুলো জব্দ করে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে প্রতারিত বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া যায়।
বড় শাস্তির মুখে তৃণমূল সাংসদ! সতর্ক করলেন ওম বিড়লা
কিন্তু আইনি সুরক্ষা পেতে ব্যর্থ হয়ে নওহেরা শেখ একজন প্রতারককে নিয়োগ করেন কল্যাণ ব্যানার্জিকে। তাকে মাসিক বেতন এবং কমিশনের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছে, যাতে তিনি ইডি-র তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেন এবং নিলাম প্রক্রিয়া ব্যাহত করেন।
কল্যাণ ব্যানার্জি নিজেকে ইডি-র সঙ্গে যুক্ত একজন কনসালট্যান্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে অফিসারদের কাছে মেসেজ এবং কল করতেন। তিনি দাবি করতেন যে, তিনি উচ্চপদস্থ আমলা এবং রাজনীতিবিদদের কাছের লোক এবং ইডি-কে চাপ দিয়ে কাজ বন্ধ করাতে পারেন।
ইডি-র তদন্তে দেখা যায়, তিনি একজন প্রতারক, যিনি বিভিন্ন বিভাগে কনসালট্যান্ট হিসেবে ভুয়ো পরিচয় দিতেন। তার মোবাইল সিমের কেওয়াইসি ডকুমেন্টে অসম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া ছিল, যার ফলে তাকে খুঁজে পেতে গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্য নিতে হয়েছে। ১০ জানুয়ারি সেকেন্দ্রাবাদের তার বাড়িতে পিএমএলএ-র ধারা ১৭-এর অধীনে তল্লাশি চালানো হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরের দিন, ১১ জানুয়ারি, তাকে নামপল্লি স্পেশাল পিএমএলএ কোর্টে হাজির করা হয়। মাননীয় বিচারক তাকে ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ইডি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কল্যাণ ব্যানার্জি নওহেরা শেখ এবং তার সহযোগীদের নির্দেশে কাজ করছিলেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি ইডি অফিসারদের হুমকি দিয়ে তদন্ত ব্যাহত করার চেষ্টা করছিলেন।
এই ঘটনা হীরা গোল্ড স্ক্যামের মতো বড় প্রতারণা মামলায় নয়া মোড় এনেছে। নওহেরা শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশে একাধিক এফআইআর রয়েছে। ইডি ইতিমধ্যে তার সম্পত্তি জব্দ করে নিলাম শুরু করেছে, যাতে প্রতারিতদের টাকা ফেরত দেওয়া যায়। এই প্রতারকের গ্রেফতার দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ইডি তার তদন্তে কোনো হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না। এমন চেষ্টা যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















