SIR সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় বাংলাদেশি! ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

কলকাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও নৃশংসতার (illegal immigrants)অভিযোগ যখন আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচিত, ঠিক সেই সময়ই উঠে এল আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ। সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ভাস্কর ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
illegal-immigrants-voter-list-west-bengal

কলকাতা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও নৃশংসতার (illegal immigrants)অভিযোগ যখন আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচিত, ঠিক সেই সময়ই উঠে এল আরও এক বিস্ফোরক অভিযোগ। সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ভাস্কর সম্প্রতি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এখনও বহু ‘ঘুসপৈঠিয়া’ ভারতীয় ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছেন, এমনকি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলার পরেও। এই অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

ভাস্করের দাবি অনুযায়ী, এই অনুপ্রবেশকারীদের অনেকের কাছেই ভারত ও বাংলাদেশের দু’দেশের পরিচয়পত্র রয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, এই দ্বৈত পরিচয়ধারীদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশের সঙ্গে যুক্ত, কেউ আবার পেনশনভোগী, আবার কেউ সরকারি ভর্তুকি ও সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছেন। অর্থাৎ, শুধু ভোটার তালিকায় নাম থাকা নয় রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে তাঁদের প্রবেশ ঘটেছে বলেই অভিযোগ।

   

‘বিজেপির একমাত্র কৃতিত্ব দেশভাগ’, তোপ কর্ণাটক মুখ্যমন্ত্রীর

ভাস্কর বলেন, “একদিকে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছেন, আর অন্যদিকে সেই দেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীরা ভারতে ভোটার তালিকায় থেকে যাচ্ছেন। এটা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।” তাঁর দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়ার পিছনে একটি সুসংগঠিত অবৈধ এজেন্ট নেক্সাস কাজ করছে, যা স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক মদতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।

এই অভিযোগে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়েও। নির্বাচন কমিশনের তরফে বারবার বলা হয়েছে, SIR-এর মাধ্যমে ভুয়ো ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভাস্করের দাবি যদি সত্যি হয়, তাহলে সেই প্রক্রিয়া কতটা বাস্তবে সফল, তা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সীমান্তবর্তী জেলা ও সংবেদনশীল এলাকায় এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে স্থানীয় স্তরের কিছু দালাল ও এজেন্ট নকল নথিপত্র তৈরি করে অবৈধভাবে ভোটার কার্ড, আধার, এমনকি অন্যান্য সরকারি পরিচয়পত্র জোগাড় করে দিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কাজে প্রশাসনের একাংশ চোখ বন্ধ করে থাকে, আবার কেউ কেউ সক্রিয়ভাবে সাহায্যও করে।

এই বিতর্কের মধ্যে শাসক ও বিরোধী শিবিরের তরফে পাল্টা মন্তব্যও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ দায়ী। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যার ফলেই আজ এই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের একাংশ এই অভিযোগকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, সরকারি সুযোগ-সুবিধার ন্যায্য বণ্টন এবং সর্বোপরি জাতীয় নিরাপত্তা এই তিনটি বিষয়ই এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই দ্বৈত পরিচয়ধারীরা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে ঢুকে পড়ে থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, ভাস্করের এই স্বীকারোক্তি শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং প্রশাসনিক জবাবদিহি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক কঠিন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, এই অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া আরও কতটা কড়াকড়ি করা হয়।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google