বাংলাদেশে অশান্তির নেপথ্যে কারা? সরব অভিনেত্রী প্রাচী

ঢাকা: বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা, ছাত্রনেতা খুন এবং তার পরবর্তী হিংসা নিয়ে (Rokeya Prachy allegations)এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী রোকেয়া প্রাচী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-unrest-rokeya-prachy-allegations

ঢাকা: বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতা, ছাত্রনেতা খুন এবং তার পরবর্তী হিংসা নিয়ে (Rokeya Prachy allegations)এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সমাজকর্মী রোকেয়া প্রাচী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সরাসরি অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এই অশান্তি কোনও আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা এক ভয়ের পরিবেশের ফল।

রোকেয়া প্রাচীর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম যে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা ছিল জেল থেকে বহু দাগি ইসলামপন্থী জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এরা কেউই সাধারণ অপরাধী নয় এদের অনেকেই খুন, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রপন্থী কার্যকলাপে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জেরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়, যা গোটা সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

   

ভারতে-নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তিতে অস্বস্তিতে বিদেশমন্ত্রী

অভিনেত্রীর অভিযোগ, এই মুক্তিপ্রাপ্ত উগ্রপন্থীরাই পরে বিভিন্ন জায়গায় জনতা জড়ো করে মব তৈরি করত। যে কেউ ইউনুস সরকারের বিরোধিতা করলেই তার উপর নেমে আসত হামলা, ভাঙচুর এবং হুমকি। “এটা স্বতঃস্ফূর্ত কোনও গণআন্দোলন নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ভয়ের রাজনীতি,” এমনই মন্তব্য করেন রোকেয়া প্রাচী।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি যেসব ছাত্রনেতাকে খুন করা হয়েছে এবং তার পর যে হিংসাত্মক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, তা কোনও দুর্ঘটনা নয়। তাঁর মতে, এই হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট এবং এগুলোর মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। “যাদের হত্যা করা হয়েছে, তারা কেবল ছাত্রনেতা নয় তারা ছিল প্রতিবাদের মুখ,” বলেন তিনি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে রোকেয়া প্রাচী জানান, মুহাম্মদ ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর এই হিংসার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের কার্যত আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বহু ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়েরই করা হয়নি। কোথাও কোথাও পুরনো মামলাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ মানুষ বিচার পাওয়ার আশা হারাচ্ছে।

অভিনেত্রীর মতে, আইনের শাসন ভেঙে পড়লে গণতন্ত্র কেবল নামমাত্র থেকে যায়। তিনি বলেন, “যখন অপরাধীরা জানে যে তাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হবে না, তখন তারা আরও সাহস পায়। এখন বাংলাদেশে ঠিক সেটাই হচ্ছে।” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোড়ন ফেলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, রোকেয়া প্রাচীর এই বক্তব্য শুধু একজন অভিনেত্রীর ক্ষোভ নয়, বরং সমাজের এক বড় অংশের জমে থাকা অসন্তোষের প্রতিফলন। বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলন দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত এবং উগ্রপন্থীদের পুনরুত্থান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তবুও রোকেয়া প্রাচীর বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশে চলমান হিংসা কি আদৌ স্বতঃস্ফূর্ত, না কি ক্ষমতার পালাবদলের পর তৈরি হওয়া এক ভয়ের রাজনীতির ফল? উত্তর খুঁজছে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা আন্তর্জাতিক মহলও।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google