চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনে হামলা, উদ্ধার কমপক্ষে ২৫ জন সাংবাদিক

ঢাকা: ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ (Bangladesh) জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র অস্থিরতা ও সহিংসতা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
mymensingh-minority-killing-dipu-das-bangladesh-violence

ঢাকা: ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ (Bangladesh) জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র অস্থিরতা ও সহিংসতা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া আন্দোলনকারী সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চার মুখপাত্র ও সিনিয়র নেতা হাদি ঢাকায় জাতীয় নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন গত সপ্তাহে দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন।

আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে ঢাকার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে বিশেষ বিমানে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই শরিফ ওসমান হাদি তাঁর আঘাতে মৃত্যু বরণ করেছেন।

   

এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে গোটা বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি বলেন, “আজ আমি গভীর শোকের সঙ্গে জাতির সামনে এসেছি। জুলাই অভ্যুত্থানের সাহসী যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চার কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান হাদি আর আমাদের মাঝে নেই।”

তিনি হাদির হত্যার সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেও ইউনুস সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার ও আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানান।

হাদির মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভ দ্রুত সহিংস রূপ নেয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঢাকার প্রথম সারির সংবাদপত্র ডেইলি প্রথোম আলো ও ডেইলি স্টার-এর অফিসে হামলা চালানো হচ্ছে। বিক্ষুব্ধ জনতা অফিস ভাঙচুর করে এবং একাধিক অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়।

অফিসের ভিতরে আটকে পড়া সাংবাদিক ও কর্মীরা লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং সহিংসতা বন্ধের আবেদন জানান। এই ঘটনায় দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনগুলি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের এই অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। চট্টগ্রামে অবস্থিত ভারতীয় মিশনে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলিতেও বিক্ষোভকারীরা হামলা চালায় বলে খবর।

সূত্রের খবর, ঢাকায় অন্তত ২৫ জন ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিককে নিরাপত্তার স্বার্থে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হওয়ায় কূটনৈতিক মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিক্ষোভের অন্যতম বড় কারণ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান। আন্দোলনকারীরা তাঁর প্রত্যর্পণের দাবিতে ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, আন্দোলনকারী পক্ষের দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে গত মাসে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সেনা ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এই অস্থিরতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google