রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তা রক্ষীদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাল কুকি জঙ্গিরা

ইম্ফল: মণিপুরে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা ফের বড় ধাক্কা খেল (Manipur Vishnupur violence)। রাজ্যের বিষ্ণুপুর জেলায় গভীর রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাল সশস্ত্র কুকি জঙ্গিরা। এই হামলায় ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
manipur-vishnupur-violence-kuki-militants-attack

ইম্ফল: মণিপুরে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা ফের বড় ধাক্কা খেল (Manipur Vishnupur violence)। রাজ্যের বিষ্ণুপুর জেলায় গভীর রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাল সশস্ত্র কুকি জঙ্গিরা। এই হামলায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৭ জন নিরাপত্তারক্ষী। ঘটনার জেরে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে উপত্যকা ও পাহাড় সংলগ্ন এলাকায়। নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বহুদিন ধরে অশান্ত মণিপুর।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইম্ফল–দিমাপুর জাতীয় সড়কের কাছাকাছি এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল এলাকায় টহল দিচ্ছিল এবং বাস্তুচ্যুত মেইতেই পরিবারগুলির পুনর্বাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছিল। সেই সময় পাহাড়ি এলাকা থেকে আচমকাই গুলি চালাতে শুরু করে কুকি জঙ্গিরা। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

   

সাফ ফাইনালের আগে এপিএফের কাছে আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল

এই হামলার ফলে বড় ধাক্কা খেয়েছে মেইতেই শরণার্থীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন ধরে ঘরছাড়া থাকা বহু মেইতেই পরিবার নিরাপত্তা বাহিনীর আশ্বাসে নিজেদের গ্রামে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু গুলির শব্দ শুনে এবং পরিস্থিতি ফের অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠায় তাঁরা আবারও প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। বহু পরিবার দ্বিতীয়বারের মতো বাস্তুচ্যুত হওয়ায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার সময় জঙ্গিরা আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা জবাব দিলেও অন্ধকার এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত ২৭ জন নিরাপত্তাকর্মীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনার পর বিষ্ণুপুর জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা, আসাম রাইফেলস এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ টহল বাড়ানো হয়েছে। জাতীয় সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়।

মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরেই মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘাতের জেরে হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন বহু নিরীহ নাগরিক। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একাধিকবার শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করলেও বারবার সহিংসতার ঘটনা সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা প্রমাণ করে যে মণিপুরে এখনও স্থায়ী শান্তি ফিরতে অনেকটা পথ বাকি।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের দাবি, এত বড় নিরাপত্তা বলয় থাকা সত্ত্বেও কীভাবে জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারল, তার জবাব দিতে হবে প্রশাসনকে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনও রকম আপস করা হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি চরম অনিশ্চয়তা কাজ করছে। বহু মানুষ আশঙ্কা করছেন, এই সহিংসতা দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে। স্কুল-কলেজ বন্ধ, বাজারঘাটে সুনসান ভাব সব মিলিয়ে স্বাভাবিক জীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে, বিষ্ণুপুরের এই হামলা আবারও মনে করিয়ে দিল, মণিপুরে শান্তি ফেরানো কতটা কঠিন। নিরাপত্তা বাহিনীর উপর এই এলোপাথাড়ি হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google