চলতি বছরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গ্রেফতার ২৫০০

নয়াদিল্লি: ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগের ছবি তুলে ধরল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (India Myanmar border infiltrators)। লোকসভায় লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে, গত দু’বছরে ভারত–মায়ানমার সীমান্তে মোট ৮৭৮ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
india-myanmar-border-infiltrators-lok-sabha-data

নয়াদিল্লি: ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ফের উদ্বেগের ছবি তুলে ধরল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (India Myanmar border infiltrators)। লোকসভায় লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে, গত দু’বছরে ভারত–মায়ানমার সীমান্তে মোট ৮৭৮ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রক জানিয়েছে, ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তের মধ্যে মাত্র ৯.২ কিলোমিটার অংশে এখন পর্যন্ত কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, মণিপুরে হিংসা ছড়ানোর পর সীমান্ত পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারত–মায়ানমার সীমান্তে সম্পূর্ণ বেড়া দেওয়ার ঘোষণা করেন। সরকারের দাবি, বেড়া নির্মাণ ও নজরদারি বাড়ালে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

   

কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপ, বর্ষবরণে নজরদারি দিঘায়

ভারত–মায়ানমার সীমান্ত মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশের পাহাড়ি ও জঙ্গলাকীর্ণ এলাকা দিয়ে বিস্তৃত। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক চরিত্রের কারণে সীমান্তে নজরদারি বরাবরই চ্যালেঞ্জের। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও পারিবারিক যোগাযোগও দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তোলে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মায়ানমারের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে বলেই দাবি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির।

লোকসভায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু পূর্ব সীমান্ত নয়—বাংলাদেশ সীমান্তেও অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত গ্রেফতারির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে ২,৫২৫ জনকে আটক করা হয়েছে, আর ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫৫৬। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, সীমান্তে বিএসএফের নজরদারি বাড়ানোয় এই ধরনের ঘটনা চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভারতের পূর্ব সীমান্তে অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর ও চলমান সমস্যা। বিশেষ করে মণিপুর হিংসার পর জাতিগত উত্তেজনা, অস্ত্রের চোরাচালান ও অবৈধ অভিবাসনের আশঙ্কা বেড়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, এত দীর্ঘ সীমান্তের তুলনায় বেড়া দেওয়া অংশ এত কম কেন? তাঁরা দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন।

অন্যদিকে, সরকারের যুক্তি—পাহাড়ি ভূখণ্ড, জমি অধিগ্রহণের সমস্যা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি—ড্রোন, সেন্সর, সিসিটিভি ও স্মার্ট নজরদারি ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বেড়া দেওয়া শুধু একটি পদক্ষেপ; তার সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয়, স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

সব মিলিয়ে, লোকসভায় পেশ করা এই তথ্য ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। ভারত–মায়ানমার ও ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের সংখ্যা যেমন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, তেমনই পূর্ণ বেড়া ও শক্ত নজরদারির প্রতিশ্রুতি সরকারের অবস্থানকেও স্পষ্ট করছে। আগামী দিনে এই পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন নজর।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google