‘নিষ্পাপ শিশুদের রক্তে হাত রাঙিয়ে ছিলেন!’ বিস্ফোরক পাক সেনাকর্মী

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম বিভীষিকাময় অধ্যায় আর্মি পাবলিক স্কুল (APS Peshawar Tragedy) পেশোয়ার হত্যাকাণ্ড। সেই নারকীয় ঘটনার ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে উত্তরহীন বহু পরিবার। ২০১৪ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
aps-peshawar-tragedy-11-years-justice-demand

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম বিভীষিকাময় অধ্যায় আর্মি পাবলিক স্কুল (APS Peshawar Tragedy) পেশোয়ার হত্যাকাণ্ড। সেই নারকীয় ঘটনার ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে উত্তরহীন বহু পরিবার। ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারের এপিএস-এ জঙ্গি হামলায় ১৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল নিষ্পাপ শিশু। এই ঘটনার ক্ষত আজও শুকোয়নি পাকিস্তানের সমাজে।

এই আবহেই নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে প্রাক্তন পাক সেনাকর্মী মুদাসসির ইকবালের বিস্ফোরক দাবি। এক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, এপিএস পেশোয়ার হত্যাকাণ্ডে তিনি নিজেও সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং ওই অভিযানে তাঁদের ঊর্ধ্বতন সেনা আধিকারিকদের তরফে শিশুদের হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর এই স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র, সেনাবাহিনী এবং বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে।

   

দেশজুড়ে উদ্ধার সোনার খনি, বদলে দেবে অর্থনীতি!

মুদাসসির ইকবালের দাবি অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন জঙ্গি আক্রমণ নয়, বরং এর পিছনে ছিল সুসংগঠিত পরিকল্পনা এবং অভ্যন্তরীণ নির্দেশ। যদিও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা সরকারিভাবে এই অভিযোগ মানা হয়নি, তবুও একজন প্রাক্তন সেনাকর্মীর এমন বক্তব্য জনমনে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই দাবি আংশিকভাবেও সত্য হয়, তবে তা শুধু মানবতাবিরোধী অপরাধই নয়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ভয়াবহ উদাহরণ।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—১১ বছর পেরিয়ে গেলেও কেন কোনও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়নি? নিহত শিশুদের বাবা-মায়েরা বারবার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও পাকিস্তানে আজও পর্যন্ত কোনও স্বতন্ত্র কমিশন এই ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনের কাজ শুরু করেনি। ফলে অপরাধীদের শাস্তি তো দূরের কথা, সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগও পাননি ভুক্তভোগীরা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখার প্রবণতার কারণেই এপিএস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক স্তরেও এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হত্যা করা হল, অথচ সেই অপরাধের বিচার আজও অসম্পূর্ণ।

এপিএস পেশোয়ার হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই’-এর নৈতিক ভিত্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সরকার একদিকে জঙ্গিবিরোধী অবস্থান নেওয়ার দাবি করলেও, অন্যদিকে যদি সেনার অভ্যন্তরীণ ভূমিকা নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠে, তবে সেই লড়াইয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নিহত শিশুদের পরিবারগুলোর জন্য এই ১১ বছর ছিল অপেক্ষা, যন্ত্রণা এবং হতাশার। অনেক বাবা-মা আজও জানেন না—কারা তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর জন্য সত্যিই দায়ী। তাঁদের দাবি একটাই—স্বাধীন বিচার, দোষীদের শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা যাতে আর কখনও না ঘটে তার নিশ্চয়তা।

বিশ্লেষকদের মতে, মুদাসসির ইকবালের বক্তব্য পাকিস্তানের সামনে এক কঠিন আয়না ধরে দিয়েছে। রাষ্ট্র যদি সত্যিই ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী হয়, তবে এখনই সময় একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করার। নইলে এপিএস পেশোয়ার শুধু একটি ট্র্যাজেডি নয়, ইতিহাসের এক কলঙ্ক হিসেবেই থেকে যাবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google