দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় (BJP breakthrough in Kerala)। দীর্ঘদিন ধরে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কেরলে এবার চোখে পড়ার মতো সাফল্য পেল বিজেপি। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে ১০০ আসনের মধ্যে ৫০টিতে জয় এই ফলাফল শুধু একটি পৌর নির্বাচনের সাফল্য নয়, বরং ২০২৬ সালের কেরল বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে বিজেপির এই ফলাফল ঐতিহাসিক বলেই মনে করা হচ্ছে। এতদিন এই কর্পোরেশন ছিল বাম শিবিরের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। সেখানে বিজেপির অর্ধেক আসন দখল রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জয় কেরলে বিজেপির দীর্ঘদিনের সংগঠন গড়ে তোলার কৌশলের বাস্তব ফল।
ভোটের অঙ্কও বিজেপির পক্ষে আশাব্যঞ্জক। এবারের নির্বাচনে বিজেপির ভোট শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ থেকে ২৩ শতাংশে, যেখানে আগে তা ছিল প্রায় ১৫ শতাংশের আশেপাশে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এত বড় ভোটবৃদ্ধি কেরলের মতো রাজ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রমাণ করছে যে বিজেপি আর শুধুমাত্র প্রান্তিক শক্তি নয়, বরং মূল লড়াইয়ের অংশ হয়ে উঠছে।
ক্রীড়ামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল বিজেপি
সংগঠনগত দিক থেকেও বিজেপির এই উত্থান নজরকাড়া। রাজ্যজুড়ে বিজেপির গ্রাসরুট উপস্থিতি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৩,০০০ ওয়ার্ডে পৌঁছেছে। বুথ স্তরে কর্মী, স্থানীয় নেতৃত্ব ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ এই তিনটি স্তম্ভকে ভিত্তি করেই বিজেপি কেরলে নিজেদের জমি শক্ত করছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উন্নয়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে কেরলকে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করার বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি, শহুরে মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ফলাফল বাম শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে এত বড় আসন হারানো শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত নয়, বরং জনসমর্থনে ফাটলের দিকেও ইঙ্গিত করছে। কংগ্রেসের অবস্থানও তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়েছে, ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ ত্রিমুখী রূপ নিচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ট্রেলার হতে পারে। যদিও কেরলে এখনও বামফ্রন্টের সাংগঠনিক ভিত মজবুত, তবুও বিজেপির এই অগ্রগতি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
শহরকেন্দ্রিক সাফল্য যদি গ্রামীণ এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক দেখা যেতেই পারে। সব মিলিয়ে, তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে বিজেপির এই সাফল্য কেরলের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বাম দুর্গে ফাটল ধরেছে এবার প্রশ্ন একটাই, ২০২৬ সালে সেই ফাটল কি পুরো দুর্গ ভেঙে দেবে?




















